উখিয়ার রত্নাপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখাঁ বাজার এলাকায় দুইটি মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া এ দুটি চুরির ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
প্রথম ঘটনাটি দু’দিন আগে ১০ জুলাইঘটেছে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রুমখাঁ বাজারস্থ মসজিদে আবু বক্কর (রা.)-তে। এই মসজিদ থেকে চোরের দল মসজিদের উঠানে স্থাপিত একটি সৌর লাইট চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি মুসল্লিদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি গেল ১১ জুলাই রত্নাপালং ৯নং ওয়ার্ডের রুমখাঁ বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। অজ্ঞাত চোরের দল মসজিদে হানা দিয়ে আইপিএসের ২টি বড় ব্যাটারি, সৌর বিদ্যুতের একটি ব্যাটারি এবং একটি মাইকের মেশিন চুরি করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা। এর আগে গত ৬ জুলাই মাগরিবের নামাজের পর পশ্চিম রত্না বায়তুন নূর জামে মসজিদের আইপিএস ব্যাটারিও চুরি হয়ে যায়।
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার বলেন, “মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে চুরি অত্যন্ত নিন্দনীয়। চোরেরা মূলত আমাদের ব্যাকআপ সিস্টেমকে লক্ষ্য করে চুরি করেছে। আমরা বিষয়টি থানায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর চালিয়ে যাচ্ছি।”
এলাকাবাসীরা জানান, ধর্মীয় স্থানের মতো পবিত্র জায়গায় ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা শুধু অপরাধ নয়, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের নির্মম প্রতিচ্ছবি। এ ধরনের ঘটনা সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে চোরচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জানান তারা।
এদিকে, উখিয়ায় সম্প্রতি একের পর এক চুরি, খুন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজ। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও চুরির মতো ঘটনা, রাতের আঁধারে খুন, এবং প্রভাবশালীদের দখলবাজির অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি দৃশ্যমান। অপরাধীরা যেন বিচারহীনতার সুযোগে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”তারা আরও জানান, প্রশাসনের উচিত এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া, নয়তো সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তারা চুরি, খুন, চাঁদাবাজি ও জমিদখলের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালানোর দাবি জানান।