০১/০৭/২০২৫ইং তারিখ সকাল ১১ ঘটিকায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন, প্রবন্ধ পাঠ করেন দলের মহাসচিব আহমেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শহিদুল ইসলাম ফরহাদ, ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার, যুগ্ম মহাসচিব জিয়াউর রহমান হীরা, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুব বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, সহ প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন , প্রমুখ।
ফ্যাসিবাদের দোসর দলগুলোকে ১০ বছর নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
ফিরোজ মোহাম্মদ লিট। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে শাহাদাত বরণকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ ৫৭ জন সেনা অফিসার সহ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিবেদিত সকল বীর শহীদদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল পিএনপি’র পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাঝে আমাদের বক্তব্য নিয়ে হাজির হয়েছি।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদ ২ লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ অর্জন করেছে জাতি, শোষণ-নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে, পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছিল সকল নাগরিকের মূল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য দুর্ভাগ্য হলেও সত্য জনগণের কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন আজও অসম্ভব হয়ে রয়েছে যার জন্য বারবার দেশ ও জাতিকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কবলে পড়তে হয়।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যতগুলো হত্যাকান্ড ঘটেছে সবই ছিল আন্তর্জাতিক দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে মেধাহীন দেশ প্রেমিক নেতৃত্ব শুন্য একটি দুর্বল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে স্বার্থবাদী কোন দেশের গোলামীর দাসত্বের শিকার বানাতে চায়। তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বারবার বাঁধাগস্ত হয়। যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই স্বৈরাচারী দানবের রূপ ধারণ করে খুন গুম হামলা মামলা গণহত্যার মত গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় এবং গণরোষে পদত্যাগে বাধ্য হয় এবং পালিয়ে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটে। যা জাতি হিসাবে আমাদের জন্য লজ্জাকর হয়ে দাঁড়ায়। আপনারা জানেন ৯০ এর গণআন্দোলনে শহীদ নুর হোসেন, ডাক্তার মিলনকে হত্যার দায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের পতন হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র কায়েম ও বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ও দেশপ্রেমিক জনতা। আন্দোলনে পতন ঘটে আওয়ামী শেখ হাসিনা সরকারের, বিজয় অর্জন হয় জনতার। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন হয়, লগি-বৈঠা দিয়ে আওয়ামীলীগ মানুষ হত্যার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দেয় এবং দেশে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন ১/১১ সৃষ্টির মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোটের সরকার গঠন করা হয়।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,
আওয়ামী লীগ মহাজোট সরকার গঠন করে একক আধিপত্য বিস্তার করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বিচার বিভাগের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় কর্মী বাহিনীতে পরিণত করে। খুন-গুম, দুর্নীতি-দুঃশাসন দেশের অর্থ বিদেশে পাচার, দেশকে লুটের রাজ্যে পরিণত করার স্বৈরতান্ত্রিক দানবীয়তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল ও জনগণের যুগপৎ আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ছাত্রসমাজ কোটা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসে। ছাত্রদের দাবির বিরুদ্ধে সাবেক শেখ হাসিনার সরকার দমন পীড়ন চালায়। ছাত্র সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার করে ডিবি হেফাজতে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক জবানবন্দী রেকর্ড করেন এবং তা গণমাধ্যমে প্রচার করেন। ছাত্র সমাজ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেয় এবং ৮ দফা দাবি জানান, ছাত্র জনতার দাবি না মেনে শেখ হাসিনার সরকার আবু সাঈদ সহ প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতার উপর গুলি বর্ষণের হুকুম দিয়ে গণহত্যার পথ বেঁচে নেয়। সরকার বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল ও ছাত্র জনতার একদফার গণআন্দোলনে ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিণতি মেনে নিয়ে গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগের পতন হয়।
গণঅভুত্থান পরবর্তী বিধ্বস্ত দেশ ও জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াক্কার উজ জামান একত্বতা প্রকাশ করে জনগণের পক্ষ নেন। তাই আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে সকল দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গণঅভ্যুত্থানে বিধ্বস্ত দেশ ও জনগণকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সেনাপ্রধানের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সকলের সমন্বয়ে গঠিত সিদ্ধান্তের মসমর্থন করে প্রগতিশীল জাতিতাবাদী দল -পিএনপি২০২৪ ৮ ই আগস্টের ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আমরা আমাদের দলের বিশ্বাস নিয়ে অন্তবর্তী কালীন সরকারকে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সুশাসন ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষে নিয়ে সমর্থন করেছি তা পূর্ণতা পাচ্ছে না। প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল পিএনপি কে শোষিত নির্যাতিত নিপীড়িত জনগণের পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের জনগণের আবারও লড়াই করার আশঙ্কা আছে বলে আমরা মনে করছি।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জানেন ১৯৫২ থেকে বীর বাঙালিকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য বহু প্রাণ বিষর্জন দিতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতা যুদ্ধ, দেশ আসলো পতাকা আসলো মানচিত্র আসলো। কিন্তু ষড়যন্ত্রের পরাধীনতার শিকল মুক্ত হতে পারেনি আজও বাংলাদেশের মেহনতি জনতা।
তাই আমাদের দল মনে করছে স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব অশুভ ছায়ার অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশ প্রেমিক বিপ্লবী জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা একটি ফ্যাসিস্ট মুক্ত দেশ বিনির্মানের স্বপ্ন দেখেছি।
জনগণকে একটি নিরাপদ উন্নতরাষ্ট্র উপহার দেওয়ার জন্য যে অঙ্গিকার করেছি তার জন্য পিএনপি’র ২১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহের অভিযান ও জেলা কমিটি পূর্ণ গঠনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,
আগামী নিরপেক্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর প্রতি আমাদের দলের সাত দফা দাবি পেশ করছি।
নিম্নে সাত দফা দাবী পেশ করা হলো:
১. জাতীয় নিরপাত্তা কাউন্সিল National Security Council গঠণ, সার্বভৌমত্ব, জনগণের স্বার্থ, অনআকাঙ্খিত জাতীয় সংকট সমাধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান সহ একটি উচ্চ কমিটি গঠন করার আহ্বান জানাচ্ছি।
২. দুর্নীতিবাজ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে সিন্ডিকেট জড়িত দুর্নীতিবাজদের সকল অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা ও বেকার সমস্যা সমাধানে যুবকদের কল্যাণে নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসায়ী উদ্যোগী হওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
৩. প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করা গত ১৫ বছরে আওয়ামী সরকারের নিয়োগকৃত দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের অপসারণ করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতীর লক্ষে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি থানা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ এবং শিক্ষিত জাতি গঠনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, হত, দরিদ্র ছাত্রদের বিনামূল্যে বই খাতা ভর্তি ফি ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য উন্নতী সাধনে প্রত্যেক ইউনিয়ন এ কমিউনিটি ক্লিনিক সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
৪. স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা ও ভোটারদের নিরাপত্তা সেনাবাহিনীর উপর ম্যাজিস্ট্রি পাওয়ার অর্পন এবং গণহত্যার দায়ী সরকার ও তার দোসরদের ১০ বছরের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষনা করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি সাধনে বিগত সরকারের অপকর্মে সাথে লিপ্ত থাকা সকল সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ ও নিরঅপরাধ প্রশাসন এর কর্মকর্তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ বিডিআর, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল শাহাদাত বরণকারী কর্মকর্তাদের জুলাই সনদে শহীদ ঘোষণার দাবি বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
৫. আওয়ামী সরকারের অধীনে অবৈধ নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছে, সে সকল জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অবৈধ ঘোষনা করা এবং তাদের সকল অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করে তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করার আহ্বান জানান ও প্রবাসীদের মর্যাদা, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তিকরণ। বিশ্বের যে সমস্ত দেশে বাংলাদেশের এ্যামবাসী নাই সেই সমস্ত দেশে নতুনভাবে এ্যামবাসী স্থাপন করে শ্রম শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ ও প্রবাসীদের সুক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
৬. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে কৃষকদের কল্যানে কৃষিঋন মওকুফ ও সুদবিহীন কৃষিঋণের ব্যবস্থা এবং কৃষকদেরকে বিনামূল্যে সার কীটনাশক বিতরণের ব্যবস্থা করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
৭. শ্রমিকদের কল্যানে সর্বস্তরের শ্রমিক কল্যান ট্রাস্ট গঠন ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং পথ শিশুদের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় বাসস্থান, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার আহ্বান জানাচ্ছি।