মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যুবদল নেতার জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। তিনি জয়মন্টপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
২৫ মে দেখা যায়, আনোয়ার হোসেন জয়মন্টপ এলাকার মৃত ছকেল উদ্দিনের ছেলে। তিনি নীলটেক মৌজার আরএস ৮৭ দাগে মাত্র সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি ক্রয় করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছেন এবং বসবাস করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি পাশের আরও প্রায় পাঁচ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে একটি পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। জনৈক আবু জাফর নামের ব্যক্তি সেখানে “পিৎজা বার্গার অ্যান্ড পার্টি সেন্টার” নামে একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন এবং প্রতি মাসে আনোয়ার হোসেনকে ৮ হাজার টাকা ভাড়া প্রদান করছেন।
জমির বৈধ মালিক হিসেবে দাবি করছেন নীলটেক গ্রামের আরজুত আলীর ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী। তিনি জানান, “আমি ২৫ শতাংশের কাতে পাঁচ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। আনোয়ার হোসেন জোরপূর্বক জমি দখল করতে গেলে আমি আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা করি এবং আদালত আমার পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে আদালত কমিশন গঠন করে জমির সীমা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু আনোয়ার আদালতের আদেশ অমান্য করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে।”
এ বিষয়ে ইদ্রিস আলী ২১ মে সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জমি ফেরতের দাবি জানান।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রেস্টুরেন্টের জায়গাসহ সেখানে আমার পৌনে ছয় শতাংশ জমি রয়েছে। আমি সেখানে ভবন নির্মাণ করেছি এবং বাকিটুকু ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছি। আদালতের কমিশনও আমার পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছে।”
তবে সিংগাইর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন জানান, কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে জমির প্রকৃত মালিক মো. ইদ্রিস আলী। আনোয়ার হোসেন জোরপূর্বক জমি দখল করে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুল আলম খান (মোহাম্মদ আলী) বলেন, “জমি আগে থেকেই আনোয়ারের দখলে ছিল। তবে ইদ্রিস জমি কিনেছে এটাও সত্য। এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষ কাগজপত্র নিয়ে বসেনি।”
বিএনপি নেতা ও মানিকগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, “আমি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। যে কেউ হোক, অন্যায় কাজের সঙ্গে আমি নেই।”
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ বলেন, “অভিযোগ হাতে পেয়েছি। আইনগতভাবে যতটুকু করণীয়, তা আমরা করব। সেই সঙ্গে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ নজর রাখছে।”