দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা ইন্তাজ উদ্দিন কামাল বিভিন্ন সময়ে নিজ মহল্লার এলাকাবাসির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মামলা দায়ের এবং মুক্তিযোদ্ধার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে কথায় কথায় এলাকাবাসিকে হয়রানি করায় পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কলেজপাড়া মহল্লার শতাধিক স্থানীয় এলাকাবাসি অতিষ্ঠ হয়ে গণস্বাক্ষরকৃত একটি অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসিদের অভিযোগ এই আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন কলেজপাড়া মহল্লার সকল অপকর্মের হোতা।
গত বিকেলে গণস্বাক্ষরকৃত অভিযোগপত্র নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসিরা বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনীম আওন এঁর নিকট দাখিল করে মুক্তিযোদ্ধা ইন্তাজ উদ্দিন কামালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক এমপি শিবলী সাদিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা, সরকারিভাবে গেজেটভূক্ত হলেও স্থানীয়ভাবে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ইন্তাজ উদ্দিন কামাল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের গত ১৬ বছর যাবৎ এলাকাবাসিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা করা সহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। এছাড়া মহল্লাবাসির চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, জোরপূর্বক নিরীহ প্রতিবেশীর জমি দখল পূর্বক এলাকা ছাড়া করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। মহল্লাবাসীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১৫ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করেই চলেছেন। কলেজ পাড়া মহল্লায় কোন কিছু না ঘটলেও ঠুনকো অভিযোগে মহল্লাবাসিদের হয়রানি করতে প্রতিনিয়ত থানায় মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া অভিযোগ দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।
গণস্বাক্ষরকৃত অভিযোগপত্রে কলেজ পাড়া মহল্লার শতাধিক মানুষ ইন্তাজ উদ্দিন কামালের বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদটি ভূয়া বলে দাবী করেছেন। তাঁর মুক্তিযোদ্ধার সনদটি যে ভূয়া তা সরজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবিসহ মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগে মহল্লাবাসীদের হয়রানির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কলেজ পাড়া মহল্লার বাসিন্দা প্রভাষক আব্দুল মাবুদ খন্দকার, হাসানুজ্জামান দেওয়ান, গণমাধ্যম কর্মী আবু তাহেরসহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ইন্তাজ হোসেন কামাল দেশদ্রোহী ও দেশের গোপনীয় তথ্য পাচারকারীর অ়ভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এ বিষয়ে সে সময়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় গ্রেফতারের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এলাকাবাসী ভূয়া এ মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসির অভিযোগের বিষয়ে আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা ইন্তাজ উদ্দিন কামালের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তাঁর একমাত্র কন্যা উপজেলার দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের সহকারি সচিব জাফরিন আকতার জয়ার মুঠোফোনে কল করে কথা বললে তিনি ঘটনার বিষয়ে বলেন, আমার বাবার বিরুদ্ধে মহল্লাবাসিরা আক্রশমূলক ভাবে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। উল্লেখিত অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনীম আওন এলাকাবাসির একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান। পরবর্তীতে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।