নরসিংদী পলাশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পলাশ থানা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়-এর এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মোঃ আলম মোল্লা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পলাশ উপজেলা বিএনপির একজন পরিচ্ছন্ন, জনপ্রিয় এবং শিক্ষানুরাগী নেতা হিসেবে পরিচিত মোঃ আলম মোল্লার এই দায়িত্বপ্রাপ্তি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এই পদ আমাকে যেমন সম্মানিত করেছে, তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা, নৈতিক শৃঙ্খলা ও মানসম্মত শিক্ষার বিকাশে এডহক কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, নরসিংদীর জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় দলের নেতা বাহাউদ্দীন ভুইঞা মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। অতীতের অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক দখলদারিত্বের অভিযোগ
বিদ্যালয়টির ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৮৯ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন পলাশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে বিদ্যালয়টি পড়ে যায় রাজনৈতিক দখলদারিত্বের শিকার।
মোঃ আলম মোল্লার ভাষায়, “গত ৮ বছর ধরে পলাশ থানা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ছিলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ ও তার সহযোগীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির চক্রে জিম্মি। প্রশাসনিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ক্ষমতার অপব্যবহার ও অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনের কারণে এই প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের বাইরে থেকে গেছে। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য, অন্যায় ও দুর্নীতির নগ্ন চিত্র।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পোটন, কামরুল গাজীসহ কিছু দুষ্কৃতিকারীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিতে অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।” শিক্ষার উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক লিখিত বক্তব্যে মোঃ আলম মোল্লা জানান, “আমি অঙ্গীকার করছি—বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একটি মানবিক ও নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।”
তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে আমরা গড়ে তুলবো একটি আধুনিক, আদর্শ ও শক্তিশালী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।”
আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা হোক শক্তির উৎস
মোঃ আলম মোল্লা দৃঢ়ভাবে বলেন, “শিক্ষা হোক উন্নয়নের মূল শক্তি। শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আসুন, আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলি একটি শিক্ষাবান্ধব সমাজ—যেখানে আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে জ্ঞান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে।”