নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদ ও ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন (জুলাই বিপ্লবের একটি সহযোগী সংগঠন) এর যৌথ আয়োজনে ৬ মে বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফ্যাসিবাদদের দোসর এবং শিক্ষা বিভাগ ধ্বংস করার মূল পরিকল্পনাকারী পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম গংদের অন্যায়-অপকর্ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নব্বই গণ-অভ্যুত্থানের সাবেক সফল ছাত্রনেতা জননেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনের অন্যতম বীর যোদ্ধা – আমার বাংলাদেশ পাটি এবি পাটির সিনিয়র সহ সভাপতি মেজর (অবঃ) ডাঃ আবদুল ওহাব মিনার। প্রধান বক্তা হিসেবে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনের বীর সৈনিক, সমন্বয়ক ও সংগঠক রাফি সালমান রিফাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, জুলাই বিপ্লব ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রসৈনিক – বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের রূপকার সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল অদুদ, মিতালি আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান ও ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মানবাধিকার সংগঠক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার।
সভায় বক্তারা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সাবেক শিক্ষা সচিব শেখ আব্দুর রশিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্যাসিস্ট আমলের বিভাগ/জেলা পর্যায়ে কলেজের প্রিন্সিপাল/ভাইস প্রিন্সিপালদের ডিসি এসপির মত ওএসডি বা উপজেলা পর্যায়ে পাঠাতে হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে এন এস আই এর নিয়োগকৃত ছাত্রলীগ অফিসারদের রিপোর্টের বাহানা করে বদলী করা যাবে না। শিক্ষায় ফ্যাসিস্টদের তালিকা ও অপকর্মসমূহ:
মোঃ সাইফুল ইসলাম, পরিচালক, ডিআইএ সাবেক প্রিন্সিপাল, জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, আওয়ামী লীগের সাংগঠিনক সম্পাদক ও জয়পুরহাট থেকে মিডনাইট এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের মামা এবং স্বপনের ডিও লেটার নিয়ে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল হয়।
মোঃ রবিউল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সাবেক সদস্য এনসিটিবি, সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী দিপুমনি ও মহিবুলের চরম আস্থাভাজন এবং সাবেক জাবির ছাত্রলীগ নেতা। বিগত ১৫ বছর সে ঢাকা বোর্ড ও এনসিটিবিতে দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে অপকর্ম করতো।
জুলফিকার, মহাপরিচালক, নায়েম, জাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শিক্ষা মন্ত্রীর দীপু মনি ও মহিবুলের একান্ত আস্থাভাজন হিসাবে ১৫টি বছর এনসিটিবিসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তছনস করে বেড়াত।
প্রফেসর আব্দুল হান্নান, পরিচালক প্রশাসন ও কলেজ, সাবেক প্রিন্সিপাল, ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ , ফ্যাসিস্টের দোসর ৫ আগস্টের আগে আন্দোলনকারীদের উপর অত্যাচার করার জন্য বিপ্লবের পর ছাত্রদের ভয়ে ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ থেকে পালিয়ে যায়।
শহীদুল্লাহ, চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ বোর্ডের সাবেক উপাধ্যাক্ষ, জাহেদা সফির মহিলা কলেজ , আওয়ামী সাবেক মিডনাইট এমপি মির্জা আজমের ডিও নিয়ে জাহেদা সফির মহিলা কলেজের উপাধ্যাক্ষ নিয়োজিত হয়েছিল।
মোফাখখারুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সাবেক প্রিন্সিপাল, বকশীগঞ্জ কলেজ,শেখ পরিবারের আত্মীয় ও আওয়ামীলীগের মিডনাইট এমপি আবুল কালাম আজাদের খাস আস্থাভাজন হিসাবে তার ডিও নিয়ে বকশীগঞ্জ কলেজের প্রিন্সিপাল হয়েছিল।
শামছুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, কুমিল্লা শিক্ষা বোড সাবেক চেয়ারম্যান, সিলেট শিক্ষা বোড, সেরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সময়ে সিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিল।
আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যান, সিলেট শিক্ষা বোর্ড সাবেক উপাধ্যক্ষ, মৌলভীবাজার কলেজ, ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে মৌলভীবাজার কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিল।
ড. আজাদ খান, মহাপরিচালক, মাউশি (অফিসের কাজের কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই অলৌকিকভাবে মহাপরিচালক নিয়োগ পায়)। ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে ফ্যাসিস্ট আমলে পিএইচডি করার বিশেষ অনুমতি পায় এবং বিগত ১৫ বছর বিশেষ অনুগ্রহে নিজ জেলা শহরেই চাকুরি করেছে। ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে তার কোনো ভূমিকাই নেই।
একিউএম শফিউল আজম, পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং, সমস্ত ফ্যাসিস্ট আমলে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি ও মহিবুলের ডান হাত হিসাবে শিক্ষা প্রশাসনকে তছনস করেছে।
হুমায়ুন কবির রাজন, শিক্ষক, চরফ্যাশন উত্তর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদ, সাবেক আহ্বায়ক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তার বিরুদ্ধে ভোলার চরফ্যাশনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননীকে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলামের অন্যায়, অপকর্ম ও দুর্নীতির চিত্র
চলমান নিয়োগ বিভিন্ন পদে ৪১ জনের অবসরের পূর্ব মুহূর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া তড়িগড়ি করে শুরু করেছেন। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে গঠিত নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব পদে উপ-পরিচালককে বাদ দিয়ে অধস্তন ১জন শিক্ষা পরিদর্শককে বিধি বহির্ভূতভাবে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
ক) প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিঃ ফ্যাসিস্ট আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কোনো শিক্ষক কর্মচারী সনদ যাচাই করা যাবে না মর্মে পরিচালক সাইফুল ইসলাম নির্দেশ দিয়েছেন।
খ) পরিদর্শন কালীন হিসাব যাচাই-বাছাইঃ পরিদর্শনের সময়কালে ৩ বছরের পূর্বের আর্থিক কোন হিসাব নিকাশ না করার আদেশ নিয়েছেন।
গ) পরিদর্শন কর্মকর্তা কর্তৃক দালিখকৃত কোন প্রতিবেদন উপ-পরিচালকগণ যাচাই-বাছাই না করেই নথি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
অর্গানোগ্রাম ও জব ডেসক্রিপশন ভায়োলেট করে উপ-পরিচালকদেরকে পরিদর্শনের বারন করে আদেশ জারী। জব ডেসক্রিপশন অনুযায়ী উপ-পরিচালকদের কাজ করতে না দেয়া।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়াই ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে পরিদর্শন কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ও এলাকার মসজিদের ঈমামদের সম্পৃক্ত করে অফিস আদেশ জারী।
ফ্যাসিস্ট আমলে পরিদর্শন করা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ভরা প্রায় ১২শ ফাইল মাত্র ৩ মাসে অধস্থনদের বদলী এবং শোকজের ভয়-ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
সনাক্তকৃত জাল সার্টিফিকেট ধারী প্রায় ৭০০ শিক্ষককে বিশাল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি মাফ করে চাকুরিতে এমপিও চালু করার প্রস্তাব করেছেন।