শাহাদাৎ হোসেন সরকার: আশুলিয়ার নলামে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মুন্টু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা রাতের আঁধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কৃষি জমি ও বংশাই নদীর মাটি কেটে বিক্রি করছে। এই কাজে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া, বংশাই নদীর মাটি কাটার ফলে নদীর প্রাকৃতিক গঠন ও পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমাদের জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা যায় মুন্টু বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত থাকায় ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না অনেকে।
কেউ কেউ বলছেন মুন্টু ও তার দলবল আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।” তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমি ও রাজস্ব সার্কেল আশুলিয়া সাদিয়া আক্তার বলেন, “আমরা রাতে আঁধারে মাটি কাটার বিষয়ে এখনো অবগত নই। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিবেশবিদরা এই অবৈধ মাটি কাটার ঘটনাকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, বংশাই নদীর মাটি কাটার ফলে নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ ছাড়া, কৃষি জমির মাটি কাটার ফলে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং মুন্টুর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
পরিবেশ ও কৃষির উপর এই অবৈধ কার্যক্রমের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন ও পরিবেশবিদদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।