ফরহাদুল ইসলাম নবীনগর (ব্রাহ্মনবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঘাউড়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর এক মৃত্যুর ঘটনার চার মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে সাথী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বছরের ১৮ অক্টোবর নবীনগরের বাঘাউড়া গ্রামে সাথী আক্তারের চাঞ্চল্যকর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন স্বামীর বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরের একটি পুকুরে তার লাশ ভেসে ওঠে। । পরে স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করে এবং স্বাভাবিকভাবে তাকে দাফন করা হয়। তাকে জ্বীনে মেরেফেলছে বলে তার স্বামীর বাড়ির লোকজন জানায়। তবে দাফনের পর সাথীর পরিবারের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তারা ধারণা করেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে সাথীর পরিবার পুলিশকে বিষয়টি জানায় এবং অভিযোগ করে যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সোমবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নবীনগরের বাঘাউড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে সাথীর লাশ উত্তোলন করা হয়। পিবিআই জানায়, লাশের মাথার খুলিতে একটি ফাটা দাগ দৃশ্যমান রয়েছে, যা সন্দেহ আরও গভীর করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর সাথীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাথীর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।