মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো: খুলনা মহানগরে আলোচিত দুটি হত্যা কান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা হওয়ায় খুন হন বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি বিক্রয় প্রতিনিধি আল আমিন ওরফে ইমন।অপরটি খুলনায় দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের জের ধরে হত্যা করা হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসনের ছাত্র অর্নব কুমারকে। গতকাল কেএমপির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে এমনই তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুতুব উদ্দিন। বেসরকারি মোবাইল অপারেটর বিক্রয় প্রতিনিধি আল আমিন ওরফে ইমন হত্যাকান্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের বলি হন তিনি। স্ত্রী লামিয়া ইসলাম সুমি পরকীয়া প্রেমে আসক্ত ছিলেন। খুলনার বড় বাজার এলাকার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সাহার সাথে নিহতের স্ত্রী লামিয়া ইসলাম সুমির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।ইমন ঘটনাটি জেনে ফেলে এবং বিশ্বজিৎকে সাহাকে কড়া ভাষায় ফোন করে গালিগালাজ করে। ইমনকে শায়েস্তা করার জন্য বিশ্বজিৎ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে।পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বজিৎ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুর্বের কর্মচারী নাইম ও মুন্সিকে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া করে। ঘটনার দিন সকাল ৮ টার দিকে নাইম ও মুন্সি ট্রাকস্ট্যান্ড রোড কাঁচা বাজারের সামনে উপস্থিত হয়। এসময় মোটরসাইকেল চালিয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন ডেল্টা ২২ তলা ভবনের সামনে পৌছালে বিশ্বজিৎ সাহা হত্যাকারীদের আল আমিন ওরফে ইমনকে চিনিয়ে দেয়। মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় সন্ত্রাসীরা ইমনের পেটের বাম পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের বড় ভাই রাজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।মামলা নং- ২৪। তারিখ – ২১/২/২৫। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভি্যান পরিচালনা করে।পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আল আমিন ওরফে ইমন হত্যাকান্ডের অভিযোগে বিশ্বজিৎ সাহাকে পুর্ব রুপসা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার আদালতে হত্যাকান্ডের বিবরন জানিয়ে বিশ্বজিৎ ১৬৪ ধারায় সীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়। গ্রেফতার বিশ্বজিৎ সাহা নগরীর পুর্ব বানিয়া খামার লোহারগেট এলাকার মতিলাল সাহার ছেলে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসনের শিক্ষার্থী অর্নব সরকার হত্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলুর সহযোগী ছিলেন অর্নব সরকার। খুব ছোটবেলা থেকে তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্ক তার জীবনের কাল হয়ে দাড়ায়। গ্রেনেড বাবুর সদস্যরা তাকে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে ৯ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আসামীদের মধ্যে ইনসান শরিফের কাছ থেকে ১ টি ওয়ান শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহ্নত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অন্যান্য আসামীদের মধ্যে শাহারিয়ার সজল ও মাহিন হোসেন শুভ অর্নব হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা সীকার করে আদালতে সীরোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। বাকি আসামীরা পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা সীকার করলেও আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা এড়িয়ে যায়। দুটি গ্রুপের দ্ধন্ধের জেরে অর্নব খুন হয় বলে আসামীরা সীকার করেছে। এ হত্যা মামলায় গোলাম রব্বানির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, রব্বানীর ডাকে সাড়া দিয়ে অর্নব শেখপাড়া তেতুলতলা মোড়ে আসে। অর্নব আসা মাত্র সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে এবং পরবর্তীতে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। ইনসানের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ওয়ান শুটারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি পরিক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে তাকে ওই অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা। নগরীতে কিশোর গ্যাং, মাদক ও জুয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে খুলনা মহানগর পুলিশ কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে। কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার সহ বোঝানো হচ্ছে। যে কিশোর গ্যং থেকে ফিরে আসছে তার নাম তালিকা ভুক্ত থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী, সর্নচোরা চালান, জুয়াড়ি সহ হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের জন্য অভি্যান অব্যাহত আছে। সংবাদ সন্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) মোঃ মনিরুজ্জামান মিঠু, সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম, এস আই আশরাফুল আলম ও এস আই খালিদ উদ্দিন।