মোঃ মানিক হোসেন: “পড়ব বই, গড়ব দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ রাজশাহীতে উদযাপিত হলো জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। এ উপলক্ষে দুদিন ব্যাপী জননী গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক সংস্থা তাদের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও “তারুণ্যের উৎসব-২০২৫” উদযাপন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩ টায় কয়েরদাঁড়ায় জননী চত্বরে আয়োজিত হয়৷ এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জননী গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক সংস্থা সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জননী গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি লতারাণী মহন্ত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকেল সাড়ে ৩টায় এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যা জননী চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কবিতা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো: মাহফুজুর রহমান আকন্দ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের চিত্রকলার প্রফেসর ড. হীরা সোবাহান, রাজশাহী বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: রোকনুজ্জামান, রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার মো: শাহাদৎ হোসেন, রাসিক সাবেক ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহম্মেদ, শিল্পপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্জ মো. আব্দুস সাত্তার, আক্তারুজ্জামান চ্যারিটি ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রতিষ্ঠাতা ফৌজিয়া আবিদা জেসি, রাজশাহী বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাইমুল হাসান।
বক্তারা গ্রন্থাগারের গুরুত্ব, জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনীয়তা এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ডিজিটাল যুগে বই পাঠের চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, কারণ এটি মানুষের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
আলোচনা শেষে বইপড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্যচর্চা এবং সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জননী গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক সংস্থা এবং এর অঙ্গসংগঠন কয়েরদাঁড়া, সপুরা ও বোয়ালিয়া এলাকার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গ্রন্থাগার দিবসের এই আয়োজন বইপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মানুষদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বই পড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে তারা নানান উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য যে, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারী) রাজশাহীর লালন মুক্ত মঞ্চে সকাল ১০ টায় উদ্বোধনী এবং বিকাল ৪ টায় পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটির সমাপ্তি ঘটবে।