মোঃ নূর ইসলাম নয়ন, দিনাজপুর ব্যুরো চিফ:নওগাঁ জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলার মতো দিনাজপুরেও সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সকাল ৮টা থেকে জেলার সব পেট্রোল পাম্পে তেল উত্তোলন, বিপণন ও পরিবহণ কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ও জ্বালানি তেল পরিবেশক মালিক গ্রুপ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ জানাতেই তারা ধর্মঘটে নেমেছেন।পাম্প মালিকদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকার অনুমোদিত লাইসেন্স ও নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো চরম অন্যায়। এক পাম্প মালিক বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে ব্যবসা করি, ট্যাক্স দিই, সরকারের নির্দেশনা মানি। তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হলো?” পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং জ্বালানি খাতে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।দিনাজপুর পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির এক সদস্য বলেন, “আমরা সরকারের প্রতিটি নিয়ম মেনে ব্যবসা করি এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখি। কিন্তু কোনো নোটিশ ছাড়াই এমন অভিযান চালানো হলে আমরা কীভাবে ব্যবসা করবো?” হঠাৎ করে ধর্মঘট শুরু হওয়ায় দিনাজপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়িচালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ। শহরের এক বাসচালক আবদুল হান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকালে পেট্রোল নিতে এসে দেখি সব পাম্প বন্ধ। ধর্মঘটের খবর জানতাম না। এখন গাড়ি চালাবো কীভাবে? এমন সিদ্ধান্ত আমাদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।” হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন হোসেন বলেন, “ক্লাস আছে, কিন্তু বাইকে তেল নেই। শহরের চারটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। বাধ্য হয়ে রিকশায় যেতে হবে, যা সময় ও অর্থের অপচয়।” অন্যদিকে, তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে তেল কিনছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পাম্প বন্ধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি লিটারে ১০-১৫ টাকা বেশি নিচ্ছেন। ধর্মঘটের কারণে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পেট্রোল পাম্প মালিকরা দাবি করেছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত তাদের দাবি না মানে, তাহলে ধর্মঘট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।