মোঃ মানিক হোসেন: রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. চন্দন কুমার প্রামানিক নিয়মিত সময়মতো হাসপাতালে হাজিরা দেন না। অথচ শহরের এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এবং নিজ এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখে গড়েছেন অঢেল সম্পদ।
সরকারি হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তিনি প্রায়ই বেলা ১১টার দিকে হাজির হন। তার দেরিতে আসার কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে বেসরকারি চেম্বারে তিনি যথাসময়ে উপস্থিত থাকেন।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের বদলে প্রাইভেট চেম্বারকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। ফলে নিয়মিত রোগীরা তার অনুপস্থিতিতে চরম ভোগান্তির শিকার হন। এদিকে, তিনি একজন সরকারি চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তার ইনকাম ট্যাক্স কেবল বেতনের ওপর দেন, অন্যান্য আয় গোপন রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. চন্দন কুমার প্রামানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা সিস্টেম থেকে দেখেছি মাত্র ২০-২৫ দিন সময়মতো উপস্থিত হতে পারিনি। তবে শহর থেকে আসতে দেরি হয় বলে কখনো কখনো একটু দেরি হয়।” তবে হাসপাতালের কর্মচারী ও রোগীদের মতে, তিনি প্রায় প্রতিদিনই দেরি করে আসেন।
এদিকে, তার চেম্বারের প্রেসক্রিপশন প্যাডে ‘কনসালটেন্ট (শিশু)’ লেখা থাকলেও তিনি কোন হাসপাতালের কনসালটেন্ট, তা উল্লেখ করেন না। ধারণা করা হচ্ছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম ব্যবহার করলে রোগীর সংখ্যা কমতে পারে বলেই তিনি এই কৌশল অবলম্বন করেন।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে রোগীদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।