এস.এম.জয়,বগুড়া: বগুড়ার শেরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও মারপিটের অভিযোগে আওয়ামীলীগের সাবেক দুই এমপি সহ দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (২ই নভেম্বর) ওই হামলার ঘটনায় আহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪৭জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে আওয়ামীলীগের দলীয় সাবেক এমপি আলহাজ্ব হাবিবর রহমান ও সাবেক এমপি ও বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনুর নাম রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো অনেককেই।
এদিকে মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সহ পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন- উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্থানীয় খন্দকারটোলা গ্রামের মনছের আলী মেম্বারের ছেলে ফজলুল হক (৪৭), একই গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে আ.লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ (৫৫), হবিবর রহমানের ছেলে সুরুজ্জামান ওরফে সুরুজ ভাঙরি (৬০), খোরশেদ আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫৫) ও পাশের সেরুয়া গড়ের বাড়ি গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে শ্রমিকদল নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালাম মুন্সী (৬০)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চলতি বছরের ১৭ই জুলাই বেলা এগারোটার দিকে শেরপুর শহরের ধুনটমোড় এলাকায় মিছিল সমাবেশ চলছিল। এসময় মামলায় অভিযুক্তরা ব্যক্তিরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ লোহার রড, লাঠি নিয়ে ছাত্র-জনতার ওই কর্মসূচিতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এমনকি শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছুড়ে এবং হাতবোমা নিক্ষেপ করেন। সেইসঙ্গে বেধড়ক পিটিয়ে মামলার বাদিসহ বেশকয়েকজন ব্যক্তিকে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে কৌশলে পালিয়ে যান তারা। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বক্তব্য জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম শফিক মামলা নেওয়ার কথা স্বীকার করে এ প্রসঙ্গে বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে ওই ঘটনায় জড়িত এবং মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করে শনিবার বিকেলেই বগুড়ায় আদালতে পাঠানো হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, সাধারণ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধী কেউ ছাড় পাবে না। তাদেরকে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।