নরসিংদী জেলা সংবাদদাতা: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কুমড়াদী গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল ভূঁইয়া। শাকিল কুমড়াদী গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ ভূঁইয়ার ছেলে ও পুটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা যায়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে এলাকায় গড়ে তুলছে ‘কিশোর গ্যাং” নামের ভয়ংকর এক বাহিনী। ছাত্রলীগের দাপট খাটিয়ে সে এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে, তার ভয়ে মানুষ আতংকে থাকত বলে জানায় এলাকাবাসী। তাছাড়াও সে কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও ইভটিজিং এর মতো জঘন্য অপরাধ ঘটিয়ে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইটাখোলায় যারা শহীদ হয়েছেন সে হত্যা মামলার আসামী এই শাকিল। বর্তমানে সে পলাতাক থাকলেও তার গঠিত কিশোর গ্যাং এখনো সক্রিয়, গ্যাং সদস্যদের সাথে শাকিল এখনো যোগাযোগ বজায় রেখে দিক নির্দেশনা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর নিয়ে জানা যায়, কুমড়াদী গ্রামের আওয়াল মাস্টারের ছেলে শাওন, একই গ্রামের আব্দুল হাশিম মিয়ার ছেলে ওবায়দুর রহমান, রহিম মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া, ইটাখোলা গ্রামের হুমায়ুন মেম্বারের ছেলে সোহেল শাকিলের একান্ত সহচর ও অপরাধ জগতের মূল হোতা, এছাড়াও এই কিশোর গ্যাং এ আরো অনেক সদস্য রয়েছে যারা মারাত্মক বেপরোয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমড়াদী গ্রামের কয়েকজন জানান, এই কিশোর গ্যাং এর অত্যাচারে রাস্তা দিয়ে স্কুলের ছাত্রীরা চলাফেরা করতে ভয় পায়। রাতে বিভিন্ন জায়গায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মত ঘটনা ঘটিয়ে থাকে ওরা। এদের ব্যাপারে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। র্যাব ও ডিবি পুলিশ এদেরকে ধরতে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেও তাদেরকে ধরতে পারেনি বলে জানায় গ্রামের লোকজন। এলাকায় মাদক ব্যবসা পুরোদমে চালিয়ে আসছে এই বাহিনী।তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এদের মধ্যে অনেকেই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও এখন পট পরিবর্তনের সাথে তারাও বিএনপির রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে অতীতের মতো দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসী মনে করেন, শাকিল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের যদি এখনি প্রতিহত না করা হয় তবে আগামীতে আরও ভয়ংকর রুপ ধারণ করবে ওরা, যা সমাজ ও দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এই কিশোর গ্যাং ও ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।