কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের তুতুকখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকি করছেন চকরিয়া কার্যালয়ের উপ-প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল, যার ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি পুনঃখননের জন্য ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সরদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আশরাফুল ইসলাম ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর খালের তলদেশে পলি জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে এবং সেচ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়। পুনঃখনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
কৈয়ারবিলের বাসিন্দা ওসমান জানান, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে কয়েক হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে একাধিক মৌসুমে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
উপ-প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল জানান, “খাল পুনঃখননের মূল উদ্দেশ্য হলো পানি প্রবাহ সচল রাখা, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং কৃষকদের জন্য টেকসই সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা। সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি।”স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, ফসলের ফলন বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।