রাজধানীর খিলক্ষেতে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে মুক্তা আক্তার (২৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সোহেল সিকদারকে আটক করেছে পুলিশ। মাকে হারিয়ে সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪) নামে দুই শিশু সন্তান এখন স্বজনদের কাছে কাঁদছে। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতের দিকে খিলক্ষেত এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা আক্তার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের সরশি গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের মেজ মেয়ে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬-৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাজলাকাঠী গ্রামের আলতাফ সিকদারের ছেলে সোহেল সিকদারের সঙ্গে মুক্তা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪) নামে দুই সন্তান রয়েছে। পেশাগত কারণে সোহেল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল। কলহের একপর্যায়ে সোহেল তার স্ত্রী মুক্তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা মুক্তার ভাই তারেক হাওলাদারের কাছে পাঠানো হয় বলে পরিবারের দাবি।
তারেক হাওলাদার জানান, ভিডিও পাওয়ার পর তিনি তার বোনকে আর নির্যাতন না করার জন্য সোহেলকে অনুরোধ করেন। কিন্তু পরদিন সকালে সোহেল খিলক্ষেত থানায় গিয়ে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানান।
পুলিশের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে আটক করা হয়।
নিহতের ভাই তারেক হাওলাদার অভিযোগ করেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুক্তা আক্তারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে মুক্তাকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই তানভীর হাওলাদার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।