শীতের পরশ কাটতে না কাটতেই পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্যের এক নতুন রূপ নিয়ে এসেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা চত্বর। চত্বরের সবুজ বৃক্ষরাজি আর জলাশয় ঘিরে জমে উঠেছে হাজারো অতিথি পাখির কোলাহল। প্রতি বছরের মতো এবারও জলবায়ুর কঠোরতা এড়িয়ে জীবন বাঁচাতে বহুদূর ডানা মেলে আসা এই অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে চত্বরটি পরিণত হয়েছে পাখির অভয়ারণ্যে।
ডাহুক, বালিহাঁস, সরালি, কাদাখোঁচা, আর নানান প্রজাতির রঙিন ডানাযুক্ত পাখির উড়াউড়িতে চারপাশের পরিবেশ যেন এক অন্যরকম রূপ ধারণ করেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরজুড়ে এসব অতিথি পাখির বিচরণ ও মিষ্টি কিচিরমিচির আওয়াজে এক মুগ্ধকর আবহের সৃষ্টি হয়, যা আগত কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সেবাগ্রহীতা সবাইকে বিমোহিত করছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শান্ত পরিবেশ এবং গাছপালা সমৃদ্ধ নিরাপদ প্রাকৃতিক ক্ষেত্র হিসেবে বিগত কয়েক বছর ধরে বেলকুচি উপজেলা চত্বরকে তারা নিজেদের পছন্দের স্থান করে নিয়েছে। পাখির এই কলকাকলি দেখতে ও ছবি তুলতে প্রতিদিন বিকেলে এখানে জড়ো হন স্থানীয় উৎসুক জনতা ও দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা।
বেলকুচি উপজেলার পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা জানান, কেবল শীতের সময়ে অতিথি পাখি দেখা যেত একসময়, কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপদ আশ্রয় মেলায় এখন বছরের দীর্ঘসময় জুড়েই এদের উপস্থিতি চোখ পোহায়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই অতিথি পাখিদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। কোনোভাবেই যাতে পাখিদের বিচরণ বিঘ্নিত না হয় এবং শিকারিদের হাতে কোনো পাখি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সার্বিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর উপহার ও সজীবতার দৃশ্য শুধু উপজেলা পরিষদের রূপকেই বদলে দেয়নি, বরং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বেলকুচির এই উপজেলা চত্বর।