1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
যানজটের নগরী থেকে স্বস্তির পথে নারায়ণগঞ্জ সেপ্টেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিসেম্বরে শেষ হবে পুরো প্রকল্প - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
বৃক্ষরোপণ শুধু কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব” : এমপি মিলন বগুড়ার গাবতলীতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম আর রিপন ময়মনসিংহে ইআরবি’র আয়োজনে মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষার সম্ভাবনা -চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেমিনার অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন না থাকায় দিগপাইতে জলাবদ্ধতা: চরম ভোগান্তিতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা বিশ্ব স্কাউট স্কার্ফ দিবস উদযাপিত: হালুয়াঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও সভা জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের গণমিছিল অনুষ্ঠিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ আমাদের পরম বন্ধু -রুহুল আমিন সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদী এখন বালু লুটকারীদের দখলে, বেড়ীবাঁধের ২০ স্থানে ভাঙ্গন, আতংকে ৩০ গ্রাম সিংগাইরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

যানজটের নগরী থেকে স্বস্তির পথে নারায়ণগঞ্জ সেপ্টেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিসেম্বরে শেষ হবে পুরো প্রকল্প

reporter সোহাদ হোসেন প্রান্ত
calendar প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ

দিনের ব্যস্ততা শেষ হওয়ার আগেই যেন থমকে দাঁড়ায় নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি মোড়। একদিকে সারিবদ্ধ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও দূরপাল্লার বাস, অন্যদিকে কর্মদিবস শেষে বাড়ি ফেরা হাজারো শ্রমিকের ভিড়। হর্নের কর্কশ শব্দ, ধুলাবালির ঝাপটা আর ধীরগতির যানবাহনের দীর্ঘ সারি—সব মিলিয়ে এ যেন প্রতিদিনের এক পরিচিত দৃশ্য। কয়েক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তবে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটার আশা জেগেছে। পঞ্চবটির আকাশজুড়ে এখন দৃশ্যমান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিশাল কাঠামো। শেষ মুহূর্তের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী সেপ্টেম্বরেই চালু হবে মূল উড়াল সড়ক এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে পুরো প্রকল্পের সব কাজ।
প্রায় এক দশক ধরে পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়কটি যানজটের জন্য কুখ্যাত। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনের চাপ লেগেই থাকে। বিশেষ করে বিসিক শিল্পনগরী, সিমেন্ট কারখানা, কোল্ড স্টোরেজ, গার্মেন্টস এবং রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারণে এই করিডোর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে সামান্য চাপেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। প্রায় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের মূল উড়াল অংশ আগামী সেপ্টেম্বরেই যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।
প্রকল্পটি চালু হলে শুধু নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, বরং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগেও নতুন মাত্রা যোগ হবে। রাজধানীতে প্রবেশ না করেই চট্টগ্রাম, সিলেট ও পূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন এই করিডোর ব্যবহার করতে পারবে। এতে ভ্রমণের সময় কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজটের সমস্যাও অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমদিকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। তবে ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, নকশাগত পরিবর্তন এবং বাস্তবায়নের নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় পৌঁছায়।
বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৬ শতাংশেরও বেশি। মূল এলিভেটেড অংশের পিলার, গার্ডার ও ডেক নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে বিটুমিন কার্পেটিং, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, রোড মার্কিং, র‌্যাম্প সংযোগ, টোল প্লাজা নির্মাণ এবং অন্যান্য সমাপ্তির কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শেষ করার জন্য দিনরাত কাজ করছেন প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা।

প্রকল্পের আওতায় মোট প্রায় ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাঁচটি র‌্যাম্প, পাঁচটি টোল প্লাজা, সাতটি এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন, প্রশস্ত সংযোগ সড়ক, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ট্রাক স্ট্যান্ড এবং নন-মোটরচালিত যানবাহনের জন্য পৃথক পার্কিং সুবিধা। পাশাপাশি পঞ্চবটি মোড়ের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে ফতুল্লা ও চাষাঢ়ামুখী ছয় লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজও চলছে।

এই করিডোরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল বলা হয়। বিসিক শিল্পনগরীসহ প্রায় এক হাজার ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে। মুক্তারপুর এলাকায় রয়েছে একাধিক সিমেন্ট কারখানা, কোল্ড স্টোরেজ, গার্মেন্টস ও ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ শ্রমিক কর্মস্থলে যাতায়াত করেন এই পথ দিয়ে। একই সঙ্গে হাজার হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, বাস এবং অন্যান্য যানবাহন এই রুট ব্যবহার করায় দিনের অধিকাংশ সময়ই যানজট লেগে থাকে।

বর্তমান সড়কের সক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিদিনই কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও। কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে দেরি হয়, আবার প্রস্তুত পণ্য নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পাঠানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সাধারণ মানুষকেও প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের যাতায়াতও অনেক সহজ হবে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর ভ্রমণের সময় প্রায় ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে আসবে। যানবাহনের গড় গতি প্রায় ৪ দশমিক ৪৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং যানজটজনিত বিলম্ব প্রায় ৭৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজ চলায় পঞ্চবটি, কাশিপুর, গোগনগর, চর সৈয়দপুর ও মুক্তারপুর এলাকার বাসিন্দাদের ধুলাবালি, যানজট ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে স্থানীয়দের বেশিরভাগই মনে করছেন, এই সাময়িক দুর্ভোগের বিনিময়ে ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাওয়া যাবে। তাই তারা প্রকল্পটি দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন ট্রাকচালক আশিকুর রহমান দীর্ঘদিনের যানজটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত অল্প কয়েক কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করতেই অনেক সময় এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যায়। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষায়, নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে শুধু সময়ই সাশ্রয় হবে না, জ্বালানি খরচও কমবে। এতে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।

বিসিক শিল্পনগরীর একটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত ইসরাত জাহান বলেন, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া ও ফেরার পথে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে তাঁদের মতো হাজারো শ্রমিকের যাতায়াত অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে।

মুক্তারপুর এলাকার ব্যবসায়ী রিয়াদুল ইসলাম বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে ধুলাবালি ও যানজটের কারণে ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়েছিল। তবে তিনি এটিকে সাময়িক অসুবিধা হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে ক্রেতাদের যাতায়াত বাড়বে, পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।

বাসচালক ইমতিয়াজ কবির বলেন, যানজটের কারণে একটি ট্রিপ শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লেগে যায়। এতে জ্বালানি ব্যয় যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি সময়সূচি মেনে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মারজিয়া ইসলাম বলেন, নির্মাণকাজের সময় কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হলেও এখন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি চালু হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা করছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি চালু হলে এটি শুধু নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই করবে না, দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়লেও এই অবকাঠামো সেই চাপ সামাল দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

পরিবহন ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করলেই হবে না; এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংযোগ সড়ক, টোল ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এসব কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অন্যতম সফল যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক বলেন, নির্মাণাধীন পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত এগিয়ে চলছে। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল এলিভেটেড অংশের সব ধরনের কাঠামোগত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সেখানে লাইটিং, বিটুমিন (অ্যাসফল্ট) কার্পেটিং এবং শেষ পর্যায়ের ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এসব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, এলিভেটেড অংশের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক, র‌্যাম্প এবং অন্যান্য অবকাঠামোর অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে। এতে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ওহিদুজ্জামান বলেন, ২০২১ সালে অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ট্রাক স্ট্যান্ড, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ২২৮ কোটি টাকা, পরে তা সংশোধন করে ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় ৮৩৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। এ কারণে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

তিনি আরও জানান, মূল এলিভেটেড অংশের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে ব্ল্যাকটপ, রোড মার্কিং, এক্সপ্যানশন জয়েন্ট, সৌরচালিত স্ট্রিট লাইট এবং টোল প্লাজার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের আওতায় ৫৮৬টি সৌর স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৭০টি স্থাপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগস্টের শেষ কিংবা সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এলিভেটেড অংশ চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। এরপর ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্প যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় পঞ্চবটি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড সড়ক উন্নয়ন, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে ৪৪৩ মিটার চার লেনের সড়ক নির্মাণ, ১৭ দশমিক ৬১ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, পাঁচটি টোল প্লাজা, সাতটি এক্সেল লোড (ওজন) স্কেল, ট্রাক স্ট্যান্ড, পার্কিং সুবিধা এবং কাশিপুর ও গোগনগর সেতুর প্রশস্তকরণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া চর সৈয়দপুর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সংযোগস্থলে একটি গোলচত্বর নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে টোল প্লাজা ও ওজন পরিমাপক স্টেশন থাকবে। নিচের সড়ক সাধারণ যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কেবল একটি উড়াল সড়ক নয়; এটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের শিল্প, বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। শিল্পাঞ্চল, নদীবন্দর, কোল্ড স্টোরেজ, সিমেন্ট কারখানা এবং দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে জাতীয় সড়ক যোগাযোগ আরও কার্যকর ও দ্রুত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে মূল এলিভেটেড অংশ এবং ডিসেম্বরে পুরো প্রকল্প চালু হলে বহু বছরের যানজটের অবসান ঘটিয়ে এই করিডোর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক যোগাযোগপথে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com