রাজশাহীর দুর্গাপুরে মুচলেকার পরের দিন মহা ধুমধাম ও জমকালো আয়োজন করে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ওই কিশোরীর বাবা ডিম বিক্রেতা, কথিত সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নবীকে বাল্যবিবাহ না দেওয়া শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের কাছ থেকে মুচলেকার একদিন পরই কিশোরীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর মাঝে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামে ওই কিশোরীর বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাপলা শারমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কনের বয়স যাচাই-বাছাই করে জানতে পারেন বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। পরে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার শর্তে কিশোরীর বাবা ইসমাইল হোসেন নবীর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকায় ইসমাইল হোসেন নবী অঙ্গীকার করেন যে, ভবিষ্যতে তিনি বাল্যবিবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না এবং মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাকে বিয়ে দেবেন না। অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই মুচলেকার একটি কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছ থেকে মুচলেকার পরদিন শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ওই কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় ধুমধাম করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। মেয়ের বাবা কৌশলে বাল্য বিয়েকে জন্মদিনের ব্যানার করে অনুষ্ঠান পরিচারনা করেন। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পরও কীভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই কিশোরীর বিয়ে হলো এ নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা জানান, “আমরা খবর পেয়ে ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধে তার বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়। পরবর্তীতে যদি ওই কিশোরীর বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটে খবর ইউএনও স্যারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”