নাহিদা আক্তার পপি,বিশেষ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভারত সীমান্তবর্তী কমলপুর ও নয়নপুর গ্রামের ৩ ইয়াবাসেবী ৩ কিশোরের উশৃঙ্খল আচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।ক্রমাগত বেপরোয়া আচরণে অশান্তির নরক এখন ৩ কিশোরের পরিবার। কাউকে কাউকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়।স্থানীয় পুলিশকে ফোন করা হলে তারা জানাচ্ছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করাতে। সেখানে দিলেও পালিয়ে চলে আসে তারা। ইয়াবা সেবনের টাকা না পেলে পরিবারে চালান মাত্রাতিরিক্ত ভাঙচুর ও হামলা।
এছাড়া এলাকার বিভিন্ন চুরি ও ছিনতাই ইত্যাদিতেও জড়িয়ে পড়ছেন তারা। ইয়াবা আসক্ত ৩ কিশোর হলেন উপজেলার ২ নং চৌমুহনী ইউপির – কমলপুর গ্রামের আবেদ আলের পুত্র মোঃ আল-আমিন (২২) ও কুলসুম বেগমের পুত্র নয়ন মিয়া (১৬) এবং নয়নপুর গ্রামের অজিনা বেগমের পুত্র লিটন মিয়া(১৯)।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়,উপজেলার সীমান্তবর্তী কমলপুর গ্রামে ৩ ইয়াবা কারবারি ওই এলাকার নতুন ত্রাস।ওই গ্রামের মাদকসম্রাট শাহাজান মিয়া, ইয়াবা কারবারি সজীব মিয়া ও মাদকসম্রাজ্ঞী কুলসুম বেগমের কর্মকাণ্ডে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।এদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহসও রাখেনা।
হাতেনাতে প্রমাণের অভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকেও তাই কঠিন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। এদের নামে রয়েছে একাধিক মাদক মামলাও।কারো কারো অভিযোগ পুলিশ এদের কাছ থেকে মাশোয়ারা গ্রহণ করে।সেজন্য দেখেও না দেখার ভান করে।ইয়াবা কারবারিরা কৌশলে কিছু যুবদের হতাশাকে পুঁজি করে ফ্রি মাদক সেবন করায়।পরে মাদকাসক্ত বানিয়ে তাদেরকে দিয়ে মাদক সরবরাহ করায় ও ব্যবসায় কাজে লাগায়।
৩ ইয়াবাসেবী কিশোর ওই ৩ মাদক ইয়াবা কারবারীদের সৃষ্টি এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ইবাইদুর রহমান বিলাল জানান,
প্রশাসন চাইলে সবই পারে। আমরা চাই মাদকের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে জিরো টলারেন্স নীতি তার বাস্তবায়ন হোক।আমাদের যুব সমাজ বাচুক।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান,মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে প্রাশাসনের উচ্চপর্যায়ের অভিযান করা প্রয়োজন। তারা যাতে জামিনে মুক্ত হতে না পারে সেজন্য কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করাও প্রয়োজন। আমার এলাকাকে নষ্ট করে ফেলছে ৩ ইয়াবা কারবারি।
মাধবপুর থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুর রহমান আতিক জানান,মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কোন ছাড় নেই।তিনি ৩ ইয়াবাসেবী ও ৩ ইয়াবা কারবারির বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেন।