আমার বাবা নিরপরাধ, হত্যাকারীদের বিচার চাই।” কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল মোহাম্মদ তোহার মেয়ে মারওয়া। চোখের জল মুছতে মুছতেই সে জানায়, তার বাবা কোনো অপরাধ করেননি। একটি কলার ছড়া চুরির প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এখন তার একটাই আকুতি, বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এক ছড়া কলা চুরিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত পটিয়া অ্যাডভোকেট ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোহা (৪৫) হত্যা মামলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। নিহতের স্ত্রী শেলি আক্তার বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. আনোয়ারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তার বাবা, ভাই ও বোনসহ মোট ছয়জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে প্রধান আসামি আনোয়ারকে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই মোনাফ হাজী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে তোহার বাড়ির কলাগাছ থেকে কলার ছড়া কেটে নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের লোকজন কাঠের বাটাম, টর্চ লাইট ও কিল-ঘুষি দিয়ে তোহার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় বোন মোছা. রোকেয়ার দাবি, কলা চুরির বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মুন্না ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। তাদের মতে, সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। নিহতের স্ত্রী শেলি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেননি। নিজের গাছের কলা রক্ষা করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে। যারা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে, তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” শনিবার (১লা আগস্ট) রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় মোহাম্মদ তোহাকে। জানাজায় আইনজীবী, আদালতের ক্লার্ক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে, রোববার (২আগস্ট) সকালে পটিয়া আদালত চত্বরে পটিয়া অ্যাডভোকেট ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তোহা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আদালতপাড়ায় একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, প্রধান আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।