পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন পটিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা মো. সাইফুল ইসলাম আসিফ। সেই ভাবনা থেকেই নিজের পরিচালিত ফার্মেসির মাধ্যমে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। প্রতি মাসে একদিন অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে আয়োজন করছেন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা গ্রামের কৃতি সন্তান মো. সাইফুল ইসলাম আসিফ বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি পরিচালনা করছেন ‘মেসার্স দয়াময় ফার্মেসি’। ব্যবসার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। জানা গেছে, সপ্তাহের সাত দিন বিভিন্ন সময়ে তাঁর ফার্মেসিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগী দেখবেন। মেডিসিন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, বাত-ব্যথা, সার্জারি, চক্ষু, গাইনি, শিশু এবং চর্ম ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের যেকোনো একটি শুক্রবার আয়োজন করা হবে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প। এ ক্যাম্পে এলাকার সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের চিকিৎসা ফি ছাড়াই অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্যোক্তা মো. সাইফুল ইসলাম আসিফ বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। অনেক মানুষ অর্থের অভাবে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না। অন্তত মাসে একদিন হলেও তাঁদের পাশে দাঁড়াতে চাই। ভবিষ্যতে এই সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার আরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন উদ্যোগ তাঁদের সেই কষ্ট কিছুটা কমাবে। বিশেষ করে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় নিম্নআয়ের মানুষ বেশি উপকৃত হবেন। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন উপকারভোগীও এই উদ্যোগের জন্য সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেবা নিতে আসা একজন উপকারভোগী রানী দে বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণের কথা ভাবা সত্যিই প্রশংসনীয়। তরুণদের মধ্যে এমন মানবিক উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, ‘মেসার্স দয়াময় ফার্মেসি’তে ন্যায্য ও সুলভ মূল্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাইকারি ও খুচরা বিক্রির ব্যবস্থাও রয়েছে। পড়াশোনা, ব্যবসা আর মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয়, এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তরুণ উদ্যোক্তা আসিফ। তাঁর এই উদ্যোগ হয়তো বড় কোনো আয়োজন নয়, তবে গ্রামের মানুষের কাছে প্রয়োজনের সময়ে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার এই ছোট্ট প্রয়াসই হয়ে উঠতে পারে অনেক পরিবারের জন্য স্বস্তির কারণ।