পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার প্রধান সহকারী খালিদ হোসাইনের বিরুদ্ধে জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে অনিয়ম, ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি, ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরিত চেক নেওয়া এবং তার অজ্ঞাতে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নাজির হোসেন হাওলাদার। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, পায়রা বন্দরের ৬ নম্বর লেন সড়ক নির্মাণের জন্য এসএ ১৮০ নম্বর খতিয়ানের ১ দশমিক ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমিটির মালিক মোশারেফ সরদার। অধিগ্রহণের বিপরীতে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি এলএ শাখায় আবেদন করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় এলএ শাখার প্রধান সহকারী খালিদ হোসাইন তার কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরিত চেক নেন। এরপর ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয় তাকে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অজ্ঞাতসারে ক্ষতিপূরণের টাকার একটি চেক উত্তোলন করে মোশারেফ হোসাইনের নামে হস্তান্তর করা হয়। পরে ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে ৬০ লাখ টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মোশারেফ সরদার।
বিষয়টি জানতে পেরে নাজির হোসেন হাওলাদার এলএ শাখায় গিয়ে খালিদ হোসাইনের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হয়েছে দাবি করে আরও ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করা হলেও তা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সংশ্লিষ্ট শাখায় ৫০ লাখ টাকা স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন খালিদ হোসাইন নাজির হোসেনকে এক লাখ টাকা দিয়ে ব্যাংকের চেকের আপত্তি তুলে নিতে বলেন। আপত্তি না তুললে তাকে বিপদে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া ১৭৪ নম্বর খতিয়ানের অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আজকের দর্পনে
‘দুই দফা মামলা, দুই দফায় আপস তবুও তদন্ত নেই শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে খালিদ হোসাইনের বিরুদ্ধে ৬০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ৭ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মারযুক রহমান রিফাত তদন্ত পরিচালনা করেন। নতুন করে ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি, চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং ৫০ লাখ টাকা স্থগিতের অভিযোগ সামনে আসায় এল এ শাখার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমানিত হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে এল এ শাখার প্রধান সহকারী খালিদ হোসাইন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা তদন্ত করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তিনি তা মেনে নেবেন। তবে ক্ষতি পূরনের টাকা থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহসিন উদ্দিন বলেন, “লিখিতভাবে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ” এর পরে ১১ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমাদের পটুয়াখালী ফেইসবুক পেইজ এ ওই একই নিউজ প্রকাশিত হয় পটুয়াখালী এল এ শাখার প্রধান সহকারী খালিদ হোসাইন এর বিরুদ্ধে, এর পরেও এখনো তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। তবে এব্যপারে অভিযোগকারী নাজির হোসেন হাওলাদার ক্ষতিপূরনের অর্থের লেনদেন, চেক উত্তোলন ও কথিত কমিশন দাবির
বিষয় গুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।