নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার দৌলতপুর এলাকা। দৃশ্যত একটি সাধারণ ও শান্ত গ্রাম হলেও এর নেপথ্যে চলছিল নিষিদ্ধ ব্যথানাশক ট্যাবলেট ‘ট্যাপেন্টাডল’-এর রমরমা সেবন। থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক অভিযানে উঠে এসেছে অপরাধের এক ভিন্ন মাত্রা—পারিবারিক সম্পর্কের অবক্ষয় ঘটিয়ে এখানে মাদক সেবনে একসাথে জড়িয়ে পড়েছেন আপন মামা ও ভাগিনা। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১:০০ ঘটিকায় ধামইরহাট থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ এই মাদক সেবনরত অবস্থায় দুজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাকিল ইসলাম (পিতা: মোঃ মামুন হোসেন) এবং মোঃ তরিকুল ইসলাম (পিতা: মোঃ অফির উদ্দিন)। সম্পর্কের দিক থেকে তারা দুজন আপন মামা ও ভাগিনা। অপরাধের আলামত জব্দ করার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ধামইরহাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে সরেজমিনে উপস্থিত হন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচার শেষে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় দুই আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ নং আসামি মোঃ শাকিল ইসলামকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে ২ নং আসামি মোঃ তরিকুল ইসলামকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। উভয়কে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পারিবারিক বন্ধনকে কাজে লাগিয়ে এভাবে একসাথে মাদকে জড়িয়ে পড়া স্থানীয় সমাজব্যবস্থার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। ধামইরহাট সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় এখানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি হওয়া কিংবা চোরাইপথে আসা ট্যাপেন্টাডল জাতীয় মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। তবে ধামইরহাট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এলাকায় মাদকের এই নীল দংশন ও বিস্তার পুরোপুরি রোধ করতে এমন বিশেষ ও আকস্মিক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।