তিতাস গ্যাস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৮৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি ঢাকার ডেমরার সারুলিয়ায় অবস্থিত একটি স্বনামধন্য মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিউশন বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণঃ
অভিযোগ রয়েছে যে, বিদ্যালয়ের অল্পসংখ্যক কিছু শিক্ষক ব্যক্তিগত টিউশনকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ করে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে ব্যক্তিগত টিউশন করে, তারা শ্রেণিকক্ষে অধিক সুযোগ-সুবিধা, ইতিবাচক আচরণ এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে।
অন্যদিকে, যেসব শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকদের কাছে টিউশন করে না, তাদের ক্ষেত্রে সামান্য অজুহাতে তিরস্কার, কঠোর আচরণ, অবহেলা কিংবা পরীক্ষার মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্বের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শিক্ষা ব্যবস্থার ন্যায়পরায়ণতা ও শিক্ষার্থীদের সমান অধিকারের পরিপন্থী।
শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবঃ
এ ধরনের অভিযোগের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভীত ও হতাশ হয়ে পড়ছে বলে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি। এর ফলে কিছু শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে অনীহা প্রকাশ করছে, আবার কেউ কেউ বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানঃ
বিদ্যালয়ের সার্বিক সুনাম, শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হচ্ছে—
– উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা।
– অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
– বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
– ব্যক্তিগত টিউশনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক চাপ, প্রভাব বা বৈষম্য বন্ধে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা।
– শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা চালু করা।
উপসংহারঃ
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মর্যাদা নির্ভর করে ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং সকল শিক্ষার্থীর প্রতি সমান আচরণের ওপর। তাই উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে