সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি সার্জন ডা. লিপিকা দাসের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট গ্রহণের একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও পাসপোর্টে নিজের পেশা বেসরকারি চাকরি (Private Service) উল্লেখ করে তিনি আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক বরাবর এই লিখিত অভিযোগটি পেশ করেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো: মোছাদ্দেক আলী। অভিযোগটি গত(৭ জুলাই ২০২৬) পাসপোর্ট অফিস কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, ডা. লিপিকা দাস (আইডি নং- ১০০৭০৯১) সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে একজন নিয়মিত সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে তাঁর ব্যবহৃত পাসপোর্টে (নম্বর: A07623995) পেশার স্থানে (Private Service) বা বেসরকারি চাকরি উল্লেখ রয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বেআইনি।
অভিযোগকারী মো: মোছাদ্দেক আলী তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পাসপোর্টের আবেদনকালে নিজ পেশা সম্পর্কে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা পাসপোর্ট আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (যেমন—পেশা, জাতীয়তা, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাস) গোপন করা পাসপোর্ট আইন-১৯৭৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী তথ্য গোপন করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া এটি ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর) এরও পরিপন্থী।
লিখিত আবেদনটিতে বলা হয়েছে,পাসপোর্ট আবেদনপত্রে ডা. লিপিকা দাস প্রকৃতপক্ষে কী তথ্য প্রদান করেছিলেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা।
দ্বিতীয়ত: প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা। তৃতীয়ত: তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে উক্ত চিকিৎসকের পাসপোর্টটি বাতিল বা স্থগিত করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম মামুন জানান,সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের একজন নারী চিকিৎসকের তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট তৈরির বিষয়ে একটি তদন্তের আবেদন আমি পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পাসপোর্টটি সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক অফিস থেকে নয়, বরং সিলেট থেকে ইস্যু করা হয়েছে। তবে যে পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন, সেই পাসপোর্ট নম্বরের তথ্যে উনার পেশা গোপন করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে তবে তদন্তের এখতিয়ার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নেই বলে তিনি জানান।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সার্জন ডা. লিপিকা দাসের বক্তব্য জানতে হাসপাতালে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেতাঁর ব্যবহত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা (মেসেজ) পাঠানো হলেও কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় তার কোন বক্তব্য জানাযায়নি।
সরকারি হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন তথ্য গোপনের অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।