উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের জেরে আবারও ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি মাদ্রাসার অন্তত ৮ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (১৪ এপিবিএন) সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পের ‘এ-৫’ ব্লকে হঠাৎ এই দুর্ঘটনা ঘটে। টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে নিচে থাকা ‘খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসা ও হিফজ খানা’র ওপর পড়ে।
মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা মাবুদ বলেন, “দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসার ভেতরে ৩০ থেকে ৫০ জনের মতো ছাত্রী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। পাহাড়ধস শুরু হতেই কয়েকজন ছাত্রী দ্রুত দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও, সিংহভাগ শিক্ষার্থীই মুহূর্তের মধ্যে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।”
ঘটনার পরপরই ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা কোদাল ও হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল এবং ১৪ এপিবিএনের সদস্যরা।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া আব্দুল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। তবে মাটির যে অবস্থা, তাতে এখনো অনেক শিশু ভেতরে আটকে থাকতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা।” তবেই আমরা ৮ জন মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি,প্রাথমিক ভাবে তাদের এখনো পরিচয় পায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে অতিবৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। হতাহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজারে গত কয়েকদিন ধরেই টানা ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ চলছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্প এলাকার পাহাড়গুলোর ধারণক্ষমতা নিয়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে আসছেন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫:৩০ মিনিট) ধসে পড়া মাটির নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মৃত্যুসংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।