১৯৮৬ সালে এসএসসি পাসের পর পেরিয়ে গেছে চার দশক। জীবনের নানা ব্যস্ততা, পেশাগত দায়িত্ব আর সময়ের দূরত্ব অনেককেই ছড়িয়ে দিয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। তবু বন্ধুত্বের টান যেন মুছে দেয় সেই দূরত্ব। পুরোনো দিনের স্মৃতি, স্কুলজীবনের দুরন্তপনা আর হারিয়ে যাওয়া মুখগুলোকে আবার কাছে টেনে আনতে নৌবিহার ও বন্ধু মিলনমেলার আয়োজন করেছে এসএসসি-৮৬ বাংলাদেশ মিরপুর-পল্লবী জোন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনভর আয়োজনে বন্ধুদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে তুরাগ নদী ও মিরপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন তামান্না ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি পার্ক। সকাল থেকে বন্ধুদের মিলন, কুশল বিনিময় আর হাসি-আনন্দের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর তুরাগ নদীতে নৌবিহারে বের হন তারা। নদীর শান্ত জলের ওপর নৌকার ছন্দময় চলার সঙ্গে জমে ওঠে বন্ধুদের আড্ডা। কেউ ফিরে যান স্কুলজীবনের দুরন্ত দিনগুলোতে, কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে শোনান হারিয়ে যাওয়া কোনো গল্প।
নদীর বুকের সেই আড্ডায় বয়স যেন কয়েক দশক পেছনে ফিরে যায়। কর্মজীবনের পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতা ভুলে সবাই হয়ে ওঠেন সেই চেনা স্কুলের বন্ধু। পুরোনো সহপাঠীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে কখনো হাসি, কখনো আবেগ- সব মিলিয়ে নৌবিহার হয়ে ওঠে স্মৃতির এক আনন্দভ্রমণ।
নৌবিহার শেষে মিরপুর বেড়িবাঁধস্থ তামান্না ওয়ার্ল্ড ফ্যামিলি পার্কে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী শরিফুল আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের এমন মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। জ মধ্যেও শৈশব-কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব ধরে রাখার এই আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজাদ পাটোয়ারী, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, টাঙ্গাইলের সভাপতি মাহে আলম সাবু, রেজুয়ানুল ইসলাম রিজু, এস এম আলী আহমেদ, ব্যাংকার গোলাম মাহবুবুর রহমান, বসুন্ধরা জোনের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ধানমন্ডি জোনের সভাপতি আনোয়ারুল হক প্রিন্স ও উত্তরা জোনের আশরাফ সিদ্দিকী।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লায়ন প্রকৌশলী মো:শাহজাহান কবির, আবু জাহিদ সাদিক, এনামুল হক, বকুল আরা, আব্দুল আলীমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বন্ধুদের কেউ গান গেয়ে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, কেউবা স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে মাতিয়ে রাখেন আয়োজন। পরিচিত মুখগুলোকে ঘিরে তৈরি হয় প্রাণের উচ্ছ্বাস। অনেক দিন পর দেখা হওয়া বন্ধুদের কেউ কেউ মেতে ওঠেন পুরোনো দিনের দুষ্টুমি আর স্কুলজীবনের মজার ঘটনা নিয়ে।
আয়োজকদের ভাষ্য, এসএসসি-৮৬-এর বন্ধুত্ব কেবল একটি ব্যাচের পরিচয় নয়; এটি দীর্ঘদিনের এক আবেগ ও পারস্পরিক বন্ধনের নাম। সময়ের স্রোত যতই এগিয়ে যাক, জীবনের ব্যস্ততা যতই বাড়ুক-বন্ধুত্বের এই বন্ধন অটুট রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তুরাগের ঢেউয়ে নৌকা যখন ধীরে ধীরে ফিরছিল, তখনও থামেনি গল্প আর স্মৃতিচারণ। বিকেলের আলোয় নদীর জল বদলে যাচ্ছিল রঙ, আর বন্ধুদের আড্ডায় ফিরে আসছিল জীবনের ফেলে আসা সোনালি সময়। যেন সময়ের নদী পেরিয়ে একদিনের জন্য আবার সবাই ফিরে গিয়েছিলেন সেই স্কুলের আঙিনায়- যেখানে বন্ধুত্বের শুরু, আর যার স্মৃতি আজও অমলিন।