উপকূলীয় জেলা বরগুনার বেতাগী উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে একই ভবনে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মৌসুমি রোগে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে জটিল ও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের কাছাকাছি অবস্থান করতে হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। পর্যাপ্ত পৃথক কক্ষ ও আইসোলেশন সুবিধা না থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন রোগের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কক্ষের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় একই পরিবেশে নানা ধরনের রোগীকে থাকতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে এসে একজন রোগী অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি দুইতলা ভবনের ওপরই হাসপাতালের অধিকাংশ কার্যক্রম নির্ভরশীল। রোগীর সংখ্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও সেই তুলনায় অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়েনি। ফলে হাসপাতালের বিদ্যমান ভবনে জায়গার সংকট ও রোগীদের ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নতুন ভবন নিয়ে অনিশ্চয়তা হাসপাতালের পাশে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজে তেমন অগ্রগতি নেই। ফলে কবে নাগাদ নতুন ভবনটি রোগীদের ব্যবহারের জন্য চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পূর্বের ঠিকাদাররা অর্থসংকটসহ বিভিন্ন কারণে নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেননি। পরে ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য সরকার নতুন করে রিটেন্ডার দিয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালের রোগীদের সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনের দাবি, খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ প্রত্যাশিত পর্যায়ের নয়। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে বিভিন্ন রোগের রোগীদের জন্য পৃথক কক্ষ ও প্রয়োজনীয় আইসোলেশন ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে তা রোগীদের ব্যবহারের উপযোগী করা এবং হাসপাতালের খাবারের মান তদারকিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, বেতাগীর বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। তাই রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত সংকট নিরসন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দ্রুত উন্নত করা জরুরি।