1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
অতিবৃষ্টিতে খাটো হয়েছে পাটগাছ, উৎপাদন কমে দুশ্চিন্তায় লালমনিরহাটের কৃষক - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
সদরপুরে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ১, আহত ৩ সরিকলে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলা কিউআর ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১২৬ পরিবার পেল ৭ লাখ টাকার অনুদান, পরে এডিপির উপকরণ বিতরণ বিরলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি, চেক ও মৎস্য চাষীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন ময়মনসিংহ সদরে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্ভোধন মাদক সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড মুলাদীতে এলজিইডির নগর অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় ওয়েস্ট বাস্কেট বিতরণ উদ্বোধন ঢাবিতে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে ইংরেজি সাহিত্য ও ভাষা শিক্ষা’ শীর্ষক সেমিনার 

অতিবৃষ্টিতে খাটো হয়েছে পাটগাছ, উৎপাদন কমে দুশ্চিন্তায় লালমনিরহাটের কৃষক

reporter জুবাইর আহমেদ খান রোহান,
calendar প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

চলতি মৌসুমে পাটের ভালো দামের প্রত্যাশায় লালমনিরহাটে আবাদ বেড়েছে। তবে মৌসুমের শুরু থেকেই টানা অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় গাছ খাটো হয়েছে এবং আঁশের উৎপাদনও কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর অধিকাংশ পাটগাছ স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত খাটো হয়েছে। সাধারণত একটি পাটগাছের উচ্চতা ৮ থেকে ১২ ফুট হলেও এবার অধিকাংশ ক্ষেতেই সেই উচ্চতা অর্জন করতে পারেনি।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এর প্রভাবে প্রতি বিঘায় গড়ে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত আঁশের উৎপাদন কমতে পারে।
আদিতমারী উপজেলার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, “গত বছর প্রতি বিঘায় প্রায় ৬ মণ পাট পেয়েছিলাম। ভালো বাজারদরের আশায় এবারও পাট আবাদ করেছি। কিন্তু এবার ফলন নেমে এসেছে ৫ মণের নিচে।”

একই উপজেলার কৃষক শহিদুল মিয়া জানান, জীবনে এত খাটো পাটগাছ দেখেননি। গাছ ছোট হওয়ায় আঁশও কম হয়েছে। ফলে বাজারে দাম ভালো থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় লাভের আশা অনেকটাই ক্ষীণ।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, “গত বছরের ভালো দামের কারণে অতিরিক্ত এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে তিন বিঘায় পাট আবাদ করেছি। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। গত বছর তিন বিঘা জমি থেকে ১৭ মণ পাট পেয়েছিলাম, এবার উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ মণ।”
কৃষকদের ভাষ্য, একের পর এক মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের ফলন কমে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাট জেলায় ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৭৩০ হেক্টর বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৪৯ মেট্রিক টন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, “বীজ বপন ও চারার বৃদ্ধির সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। ফলে গাছের উচ্চতা ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত কমেছে এবং প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত আঁশের উৎপাদন কম হতে পারে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উজানের ঢলের প্রভাবে লালমনিরহাটে স্বাভাবিক ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের বিপরীতে প্রায় ২০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এছাড়া মে মাসে রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান রনি জানান, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ পাট কাটা হয়েছে। অবশিষ্ট পাটও চলতি মাসের মধ্যেই কাটা শেষ হবে। এরপর বাজারে নতুন পাটের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় উৎপাদন কমলেও জেলার অধিকাংশ স্থানে সন্তোষজনক ফলনের আশা রয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার উন্নতমানের বীজ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com