যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, মারধর ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আরমান হোছাইন নামে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু মামলা নং-৬৬/২৩। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বাদী মোসা. মিনুয়ারা আক্তার এবং আসামি তার স্বামী মো. আরমান হোছাইন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে আরমান হোছাইনের সঙ্গে মিনুয়ারা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।বাদিনীর অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন স্বামী। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তিনি বাবার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা এনে দেন। পরে স্বামী বিদেশে যাওয়ার কথা বলে আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় মিনুয়ারা আক্তারকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি সন্তানকে নিয়ে ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি তার ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সংসারে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দাবিকৃত ২ লাখ টাকা না দিলে তাকে আর গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১২ জুন সকালে বাদিনী সংসার করার অনুরোধ জানালে স্বামী পুনরায় ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।মামলায় বাদিনীসহ মোট পাঁচজন সাক্ষ্য দেন। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামি মো. আরমান হোছাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন,যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে।