বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে প্রতারণা ও আত্মসাতের অভিযোগে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী-০১ নং আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ রাইকদাড়া গ্রামের একরাম হোসেন। আদালতে দাখিল করা অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে মুনলাইট ট্রাভেলসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— সুব্রত দাশ (৫২), এক্সিকিউটিভ; মৌসুমী রায় (২৫), সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার; রিয়াজ রহমান (৩০), এক্সিকিউটিভ অফিসার; সৈয়দ রাহি (৩৫), মুনলাইট ট্রাভেলসের মালিক; এবং রাজাত কুমার রায় (৩৮), মার্কেটিং অফিসার। তাদের সকলের কর্মস্থল সিলেট নগরের হাওয়াপাড়ায় অবস্থিত মুনলাইট ট্রাভেলস।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভিসা প্রসেসিং, চাকরির ব্যবস্থা, বিমান টিকিট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের কথা বলে একাধিক কিস্তিতে বাদীর কাছ থেকে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিদেশে পাঠানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি আসামিদের কাছে টাকা ফেরত চান। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করায় নিজেকে প্রতারণার শিকার মনে করে আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, এটি আদালতে দায়ের করা মামলায় বাদীপক্ষের অভিযোগ। এ বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই ও নিষ্পত্তি হবে।