শেরপুর উপজেলার ১৩ নম্বর রৌহা ও ১২ নম্বর চোকআন্ধারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত ও কাদা, যা চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এ পথ দিয়েই প্রতিদিন স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কাদাযুক্ত সড়ক পেরিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পোশাক নষ্ট হয় এবং দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অনেক অভিভাবক বর্ষাকালে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন, ফলে শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। জরুরি রোগীদের খাটিয়া বা কোলে করে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়, যা রোগীর জন্য বাড়তি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে এই সড়কই প্রধান ভরসা। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাসই মিলেছে, কিন্তু দুর্ভোগের অবসান হয়নি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পান রৌহা দক্ষিণ পাড়ার হাজারো মানুষ।