কর্ণফুলী উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার অভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও প্রতিষ্ঠার প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। আড়াই লাখের বেশি মানুষের জন্য এখনও গড়ে ওঠেনি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সম্প্রতি ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মত জেবুন্নেসা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে ২৫০ শয্যার পরিবর্তে ১০০ শয্যার নির্মাণের প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
২০১৬ সালের ৯ মে পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন নিয়ে কর্ণফুলী উপজেলা গঠিত হলেও এই শিল্পসমৃদ্ধ উপজেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ২০২৫ সালের ১ জুলাই একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য জমি জরিপ ও চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়, কিন্তু এক বছরে প্রকল্পের অনুমোদন না পাওয়ায় এটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
বর্তমানে উপজেলার মানুষের জন্য অস্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র অর্ধবেলা চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। সন্ধ্যার পর চিকিৎসক চলে গেলে কার্যত সেবা বন্ধ হয়ে যায়। ১১টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও বেশিরভাগ কেন্দ্রেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সরঞ্জামের অভাব রয়েছে, ফলে অসুস্থরা চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরীতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দারিদ্র্যজনিত কারণে অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বড়উঠান ইউনিয়নের যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীম বলেন, “উপজেলা ঘোষণার পর প্রশাসনিক সুবিধা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবায় কর্ণফুলীবাসী এখনও বঞ্চিত। এখানকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা বিবেচনায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।”
ডা. মোছাম্মত জেবুন্নেসা আরও জানান, ১০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণের প্রস্তাব পাওয়ার পরে, ২৫০ শয্যার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতির জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।