রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে মানিকগঞ্জের ‘একরাম স্মৃতি ফুটবল একাডেমিকে’ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ( বিকেএসপি)।
গাজীপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলা শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ গোলের ব্যবধানে একরাম স্মৃতি ফুটবল একাডেমি (মানিকগঞ্জ)-কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ( বিকেএসপি)। বিজয়ীদের হাতে শিরোপা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।
হাজারো ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি শুরু থেকেই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দুই দলই সমানতালে লড়াই করে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে বিকেএসপি ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। খেলায় বিকেএসপির গোলরক্ষক মাহিন ম্যান অব ম্যাচ হয়েছেন এবং সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন একরাম ফুটবল স্মৃতি একাডেমির সুমন।
খেলার শুভ উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দীন, বিএনপি নেতা মীর হালিমুজ্জান মনী, আহমদ আলী রুশদি, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস প্রমুখ।
দেশের বিভিন্ন জেলার ১৬টি শক্তিশালী দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্যালারির পাশাপাশি মাঠের চারপাশও ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ৩ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলের জন্য ২ লাখ টাকা প্রাইজমানি নির্ধারণ করে পুরস্কৃত করা হয় । এছাড়া সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা গোলরক্ষকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, ‘মাদককে না বলি, খেলাধুলার মাধ্যমে সুন্দর জীবন গড়ি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিলো। তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ, মানবিক ও ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গড়ে তোলাই ছিলো এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সফল আয়োজন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি গাজীপুরের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।