1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
৭ বছরেও শেষ হয়নি আশুলিয়ার নলাম সেতুর নির্মাণকাজ, জনদুর্ভোগে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেয়াদ পুনর্বিবেচনার সময় কি এসেছে? মানচিত্র স্পোর্টস ক্লাবের তিন খেলোয়াড়,কাবাডিতে দেশসেরা গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী রেফার বাণিজ্যের অভিযোগ; তদন্তের দাবি জয়পুরহাটে র‍্যাব-৫ এর অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার শিলাইদহ ইউনিয়নে উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুল হক ওহিদুল বেলা শেষে মৌলভীবাজারে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রশিক্ষণ উপকরণ বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ আমরাই ভবিষ্যৎ যোদ্ধা আশুলিয়ায় পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

৭ বছরেও শেষ হয়নি আশুলিয়ার নলাম সেতুর নির্মাণকাজ, জনদুর্ভোগে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ

reporter ‎মোঃ বশির উদ্দিন,‎আশুলিয়া (ঢাকা) 
calendar প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

‎একটি সেতু বদলে দিতে পারত হাজারো মানুষের জীবন। কমিয়ে দিতে পারত বছরের পর বছর ধরে চলা যাতায়াতের দুর্ভোগ। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরুর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আশুলিয়ার বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন নলাম সেতু আজও অসম্পূর্ণ। ‎ ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার বংশী নদীর তীরে অবস্থিত মাইঝাল, পাইছাল, উনাইল, ধামসোনা, গোপালবাড়ীসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের কাছে নলাম সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি ছিল নিরাপদ যোগাযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বস্তির প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সেই স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গেছে।

‎বর্তমানে নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি খেয়া নৌকা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে নদী পার হতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন জরুরি রোগী ও প্রসূতি মায়েরা। অনেক সময় একটি নৌকার জন্য অপেক্ষাই জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

‎স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০১৯ সালের ২১ জুলাই ৮২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের নলাম সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

‎দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। সম্প্রতি সেতুর সামনে একাধিকবার মানববন্ধন করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণেই বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প।
‎ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ সাত বছর আগে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও আজও তা শেষ হয়নি।

‎ একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে জরুরি রোগীদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। আমরা মানববন্ধনের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছি। অচিরেই কাজ শুরু না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

‎এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা মিনারুল ইসলাম সোমন মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর অ্যান্ড খোশেদা এন্টারপ্রাইজ (জেভি)-কে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

‎ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যাদেশ বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অফিসে যোগদান করার পর প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

‎এদিকে প্রকৌশল অফিসের একটি সূত্রের দাবি, প্রভাবশালীদের সহায়তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ বিল উত্তোলন করলেও নির্মাণকাজ শেষ না করেই সরে গেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ‎সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু এবং প্রকল্পটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

‎দীর্ঘ সাত বছরেও নলাম সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা করলে তারা একটি নিরাপদ সেতু পাবেন? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com