কক্সবাজারের রামু উপজেলার দুর্গম গর্জনিয়া ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যা ও বাঁকখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তাদের জীবনের শেষ সম্বল। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বোমাংখিল এলাকার আবু তালেব, আবু জাফর, মোস্তাক, আবু হান্নান, গফুর এবং মানসিক ভারসাম্যহীন জান্নাত আরাসহ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউবা অস্থায়ীভাবে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুর্গম সীমান্তাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে অগ্রযাত্রা ও কোস্ট ফাউন্ডেশন। দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে গর্জনিয়া ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অতিদরিদ্র ও সহায়তাবঞ্চিত পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি দুই সংস্থার প্রতিনিধিরা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। যেসব পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে কিংবা এখনও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের বাড়িতে গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন অগ্রযাত্রার প্রধান নির্বাহী নীলিমা আকতার চৌধুরী, কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, অগ্রযাত্রার পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সাজেদা বেগম, বিশিষ্ট সমাজসেবক নুরুল আমিন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটির সদস্যরা।
অগ্রযাত্রার প্রধান নির্বাহী নীলিমা আকতার চৌধুরী বলেন, “এই এলাকার অনেক পরিবার শুধু বন্যায় নয়, নদীভাঙনের কারণে তাদের বসতভিটা ও নিরাপত্তাও হারিয়েছে। দুর্গমতার কারণে তারা যেন মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আজকের সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি।”
কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে স্থানীয় সংগঠন, প্রশাসন, দাতা সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, ঘর পুনর্নির্মাণ, নিরাপদ স্থানান্তর ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জরুরি।”
অগ্রযাত্রার পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ‘Leave No One Behind’ নীতির আলোকে সবচেয়ে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছেই আগে সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার। সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী কোনো পরিবার যেন মানবিক সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”
আয়োজকেরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ আশ্রয়, ঘর মেরামত, নগদ সহায়তা, জীবিকা ও গবাদিপশু পুনরুদ্ধার, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্বাসনে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে অগ্রযাত্রা ও কোস্ট ফাউন্ডেশন দাতা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সংগঠন, দূতাবাস এবং বেসরকারি খাতকে দুর্গম এই জনগোষ্ঠীর জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।