বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুপচাঁচিয়া ইসলামিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবনির্মিত দ্বিতীয় ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই ভবন চালুর মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা ও পরিধি আরও সম্প্রসারিত হলো।
গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আব্দুল হাই। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ যৌথভাবে ফিতা কেটে দ্বিতীয় ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে তারা ভবনের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করে নবসংযোজিত চিকিৎসা সুবিধা ও আধুনিক সেবার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
সভাপতির বক্তব্যে নুর মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, “স্বল্প খরচে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। দ্বিতীয় ভবনের উদ্বোধনের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
প্রধান অতিথি মো. আব্দুল হাই বলেন, “মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা একটি মানবিক অধিকার। দুপচাঁচিয়া ইসলামিয়া হাসপাতালের নতুন ভবন চালুর ফলে এ অঞ্চলের মানুষ আরও আধুনিক ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা পাবেন। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন ভবনে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, উন্নত ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা, আধুনিক ইনডোর ব্যবস্থা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে স্থানীয় রোগীরা নিজ এলাকাতেই অধিকতর উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসবে।
বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুপচাঁচিয়া ইসলামিয়া হাসপাতাল সেবার মান ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় ভবনের উদ্বোধনের ফলে হাসপাতালটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য, রোগীদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।