ঘুষ দাবির অডিও ফাঁসের পর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা তারানুমা এলাহীকে বাঁশখালীতে বদলি করা হয়েছে। দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু বদলি করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারানুমা এলাহীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সারোয়াতলী ইউনিয়নের কঞ্জুরি এলাকার নুর বক্স বাড়ির বাসিন্দা নূর বেগমের পৈতৃক জমি উদ্ধারের বিষয়ে গত ২২ জুলাই ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কর্তৃক ‘৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবীর অডিও ফাঁস হয়।
জানা গেছে, ১৯৭২ সালে মনিন্দ্র লাল চক্রবর্তী ওই জমি নূর বেগমের মায়ের কাছে বিক্রি করেছিলেন এবং ওই দলিলে সাক্ষী ছিলেন মিলন চক্রবর্তী। পরবর্তীতে মিলন চক্রবর্তী প্রতারণার মাধ্যমে একই জমিতে নিজের নামে খতিয়ান তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ তদন্ত করে মিলন চক্রবর্তীর মালিকানা না থাকার রায় দিলেও জমিটি ফেরত পাননি নূর বেগম।
উল্টো তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে উপ-সহকারী কর্মকর্তা তারানুমা এলাহী ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন, যা অডিওতে রেকর্ড হয়।
অডিওতে শোনা যায়, ওই ভূমি কর্মকর্তা জমির প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে নূর বেগমকে টাকা নিয়ে তাঁর বাসায় দেখা করতে বলেন।
অডিও ফাঁসের মাত্র এক দিন পরই তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতির প্রমাণ মেলার পর এই বদলি প্রকৃত শাস্তি না কি দুর্নীতিবাজদের জন্য পুরস্কার।
এ ব্যাপাওে বোয়ালখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতিমা জানান, তারানুমা এলাহীকে আপাতত বাঁশখালীর খানখানাবাদ ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় আইনী ব্যবস্থা নেবে।