একসময় ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার গ্রামীণ জনপদে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এলেই বাতাসে ভেসে আসত আউশ ধানের মৌ মৌ গন্ধ। বাড়ির উঠান কিংবা গ্রামীণ মেঠোপথের দুই পাশে সারিবদ্ধ ধানের গোছা শুকানোর নৈসর্গিক দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। তবে সময়ের ব্যবধানে, আধুনিক কৃষির আধুনিকায়ন ও অধিক ফলনশীল জাতের দাপটে হালুয়াঘাট থেকে প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে এই ঐতিহ্যবাহী আউশ ধান।
স্থানীয় প্রবীণ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক যুগ আগেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু ও মাঝারি জমিতে ব্যাপকভাবে আউশ চাষ হতো। কোনো কৃত্রিম সার বা সেচ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রকৃতি ও বৃষ্টি ওপর নির্ভর করে তৈরি হতো এই ধান। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার পর কিংবা বৈশাখের শুরুতে জমি প্রস্তুত করে আউশ রোপণ করা হতো। তবে কালের বিবর্তনে এখন আর গ্রামীণ মেঠোপথে বা কৃষকের উঠানে আউশ ধান শুকানোর সেই পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে না।
আউশ বিলুপ্তির প্রধান কারণ হিসেবে আধুনিক উফশী (উচ্চফলনশীল) জাত ও বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। আউশ ধানের ফলন বোরো বা আমনের তুলনায় কম হওয়ায় কৃষকরা অধিক লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া আবহাওয়া পরিবর্তন, সেচনির্ভর আধুনিক কৃষিব্যবস্থা এবং সময়মতো বৃষ্টির অভাবের কারণেও কৃষকরা আউশ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য ও স্থানীয় কৃষকদের মতে, আউশ ধান রক্ষা করা গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো, কারণ আউশে কৃত্রিম সেচের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। হারিয়ে যাওয়া এই গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি বজায় রাখতে স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চফলনশীল আউশের জাত উদ্ভাবন ও সরকারি উদ্বুদ্ধকরণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।