নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবনচুর গার্লস স্কুল সংলগ্ন একটি রাস্তার সংস্কার কাজ উদ্বোধনের মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই উদ্বোধনী নামফলক উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী আনুষ্ঠানিকভাবে কাজটির উদ্বোধন করেন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে উদ্বোধনী নামফলক স্থাপন করা হয়েছিল, সেখানে এখন শুধু খালি স্তম্ভটি পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পরই নামফলকটি আর সেখানে দেখা যায়নি।
নামফলকের স্তম্ভ নির্মাণকারী মিস্ত্রি মো. আরিফ দাবি করেন, স্তম্ভ নির্মাণের সময় পাশের এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিএনপির কর্মী আব্দুল জলিল সেখানে এসে বলেন, “এটা আন্দাজে লাগিয়ে লাভ কী? এটা তো এখানে থাকবে না।”
তবে এ বিষয়ে আব্দুল জলিল বলেন, তাঁর বক্তব্যের ভিন্ন অর্থ ছিল। তিনি দাবি করেন, “আমি বলেছিলাম, এখানে আগে মেজর রানার সময় স্কুলের যে নামফলক ছিল সেটিও উধাও হয়ে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলেছি, এই নামফলকও হয়তো থাকবে না।” তাঁর ছেলে সুমন জানান, রাতে ওই স্কুল এলাকায় কিছু বখাটে যুবকের আনাগোনা থাকে।
কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “কাজের জন্য রাখা ইট চুরি হয়ে যায়, কোথাও নালায় বালু ফেলে বাধা সৃষ্টি করা হয়। সর্বশেষ উদ্বোধনের নামফলকটিও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা কাজটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় জামায়াত নেতা রফিকুল আলম বলেন, “যেখানে একটি নামফলকও নিরাপদ নয়, সেখানে নির্মাণসামগ্রী কীভাবে নিরাপদ থাকবে? উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
ভাবনচুর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম দাবি করেন, এ ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওহেদুজ্জামান (৬২) বলেন, তাঁর ধারণা, সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভক্তির কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, এ ঘটনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাস্তার সংস্কার কাজটি ৩১ মার্চ ২০২৬ সালে শুরু হয় এবং জুন মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রকল্প-সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, বর্তমানে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
নামফলক উধাও হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও এ বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।