আগামীকাল ১৭ জুন রোজ বুধবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ‘(ডিআরইউ’) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উদ্যোগে কুমিল্লার চৌদ্দ গ্রামের কাতার প্রবাসী মোঃ শওকত হোসেন, পিতা মৃত: মীর আহম্মদ, মাতা: মাছুমা আহমেদ, ঠিকানা: গ্রাম: আগদিয়া, পো: গুনবতি-৩৫৮৩, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা কর্তৃক নির্যাতিত জেসমিন আক্তারকে অপহরণ এবং তার দুই সন্তানকে জিম্মি করে রাখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সভাপতিত্বে ও জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো : মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করবেন পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার হওয়া নির্যাতিত ভিকটিম জেসমিন। ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। অসহায় ভিকটিমদের সার্বিকভাবে সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি ও ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের পক্ষ থেকে সবরকমের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
অসহায় নির্যাতিত ও নিপীড়নের শিকার জেসমিন ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভিকটিম পরিবারের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন – জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপি আহ্বায়ক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জনাব হাবিবুর রহমান হাবিব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন, বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, রুর্যাল জার্নালস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ রমিজ উদ্দিন রুমি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রজনতা আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি – নাজমুল হাসান।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দ গ্রাম উপজেলার কাতার প্রবাসী শওকত হোসেন পারিবারিকভাবে বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার লস্করপুর গ্রামের মোঃ ইব্রাহিম মাস্টার ও রাবেয়া বেগমের কন্যা জেসমিন আক্তারকে ১ মার্চ ২০১৯ সালে বিবাহ করেন এবং তাদের ঘরে দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, আরহী ইসলাম সাফা (৪), আব্দুল্লাহ আল সাফা (১৮ মাস)। করোনাকালীন সময়ে প্রবাসে যেতে না পারায় ব্যবসার জন্য আমার বাবার বাড়ী থেকে ৯ লক্ষ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে তাকে দেয় হয়। পরবর্তীতে সে ব্যবসায় লস খেয়ে প্রবাসে চলে যায়। এবং বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই আমার শ্বাশুরী মাসুমা, চাচী শ্বাশুরী পারভীন আক্তার, ননাশ নিলুফার, চাচা শ্বশুর আক্তার হোসেন এবং তার ছেলে নানাভাবে নির্যাতন ও নিপীড়ন করতে থাকে। আমাকে ও আমার সন্তানকে খাবার কষ্ট দেয় এবং ৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখে তাদেরই নির্দেশে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আমাকে অপহরণ করে এবং আমার ফোন ও কাগজপত্র সবকিছু নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার ভাতিজী সুমাইয়া আক্তার ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের মাধ্যমে আমাকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় নারী, শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, মামলা নং-১৫, তাং-০৮/০৬/২০২৬। মামলার ১নং আসামী মাসুমাসহ সকলে জামিনে এসে আবারও আমার উপর নির্যাতন শুরু করেছে এবং আমি বাড়ীতে বসবাস করার কোন অবস্থা এখন আর নেই। যে কোন মুহুর্তে আমাকে ও আমার দুই সন্তানকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এখন প্রতি মুহুর্তে আতঙ্কিত অবস্থায় জীবন-যাপন করছি। উল্লেখ্য ০৬/০৫/২০২৫ইং তারিখে ৩নং চর এককরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ বরাবর তালাক নোটিশ প্রেরণ করে। আমার স্বামী শওকত হোসেন কাতারে অবস্থান করে কিভাবে তালাক নোটিশ পাঠালো তা আমার বোধগম্য নয়, আমি মনে করি আমার শ্বাশুরি গংরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আমার নিকট তালাক নামা প্রেরণ করার খবর পেয়ে আমি একটি মামলা কুমিল্লা আদালতে দায়ের করি, মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।