মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা এলাকায় পদ্মা নদীর বালি মহলে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিব খান অনয়ের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনীর পাহারায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে চলেছেন, যেখানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই ছাত্রদল নেতার।এ নিয়ে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও উপজেলা প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তেওতা এলাকার পদ্মা নদীর বালি মহলের টেন্ডার নিয়ে জটিলতা থাকলেও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নিয়মিত আইন অমান্য করে বালি তোলার কাজ চালিয়ে আসছে।শাকিব খান অনয় সেই চক্রের অন্যতম নিয়ন্তা বলে দাবি স্থানীয়দের। প্রত্যক্ষদর্শীরা , রাতে ড্রেজার ও নৌকা নিয়ে বালু তোলা হয়, আর পাহারা দেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শাকিব খান অনয় বালু তোলার অনুমতি টেন্ডার নিয়েছে তেওতায় আর বালু উত্তাল করছেন আলোকদিয়ার চরে। প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে পাটুরিয়া নৌ পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাংবাদিকদের জানান, আপনারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন বলে ফোন রেখে দেন ।কিন্তু শিবালয় উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইউএনও’র সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর আগেও স্থানীয় সংবাদপত্রে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা অভিযান চালানো হয়নি। এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।পদ্মার নদীভাঙনে ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তেওতা ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষ।
নদীভাঙন রোধে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন নদীর প্রবাহ আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা মনে করেন। ভাঙনের থাবা থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী বারবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় হতাশ তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, “আমরা দিনে-রাতে বাঁচার জন্য দোড়গোড়ায় ঘুরছি। উপরে নদীভাঙন, নিচে এই সিন্ডিকেট। রাতে বালি তোলার শব্দে ঘুমাতে পারি না। কারও কাছে কোনো অভিযোগ করলে লাভ নেই, পুলিশ আসে না, ইউএনও সাহেব ফোনও ধরেন না।”
আরেক ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগমের কান্না ভাঙা গলায় বলেন, “ছেলের জমিটুকু নিয়ে অন্যের চালের ভিড়ে থাকি। তার ওপর বালি তোলার ট্রাক চলাচলে রাস্তাও নষ্ট। কেউ আমাদের কথা শোনে না।”
অভিযুক্ত শাকিব খান অনয়ের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।তবে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যমতে, শাকিব খান অনয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে তেওতা এলাকায় বালি সিন্ডিকেট সক্রিয়।
পাটুরিয়া নৌ পুলিশের ওসি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এবিষয়ে আমার জানা নেই । বিষয়টি যেনে জানাবো।
আপনি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন ইউএনও’র নির্দেশনার পরই বড় ধরনের অভিযান সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছেন, শিগগিরই স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান তারা।এদিকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে একাধিকবার অভিযোগ গেলেও এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি প্রশাসন।ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেওতার পদ্মা নদীর বালি মহলটি দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনকারী চক্রের কবলে রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর আইনগত হস্তক্ষেপ না থাকায় সিন্ডিকেটটি দিন দিন আরও শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির চরম সীমায় নিয়ে গেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শুধু পুলিশি অভিযান নয়, বরং প্রশাসনের আন্তরিক তদন্ত ও টেন্ডার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনলে এবং ভাঙন রোধে উদ্যোগ নিলে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব।তবে আপাতত অন্ধকারই যেন সঙ্গী হয়ে আছে শিবালয়ের তেওতার বাসিন্দাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।