আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণেই চরম হয়রানি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। তাঁকে সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার ভোলার চরফ্যাশন চৌকি আদালতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর নাম আবুল কাশেম। তিনি উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘ এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মুক্ত হন বলে জানা গেছে। আদালত প্রাঙ্গণে একজন সাক্ষীর সঙ্গে এমন আচরণে স্থানীয় বিচারপ্রার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ২০২২ সালের মার্চ মাসের একটি চুরির মামলা। ওই বছরের ১৩ মার্চ ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক বাসিন্দার পুকুর থেকে মাছ লুটের সময় ইউপি চেয়ারম্যানের পাঠানো গ্রাম পুলিশদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ ঝিলন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সরকারি সাক্ষী করা হয়। দীর্ঘ দিন পর গত মঙ্গলবার ওই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
আদালতের তলব পেয়ে বেলা ১১টার দিকে চরফ্যাশন চৌকি আদালতে যান আবুল কাশেম ও মামলার অন্যতম সাক্ষী গ্রাম পুলিশ মো. আজাদ। অভিযোগ ওঠে, এজলাসে যাওয়ার আগেই সরকারি কৌঁসুলি হযরত আলীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাঁদের ডেকে এনে অবরুদ্ধ করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রাম পুলিশ মো. আজাদ বলেন, ‘পিপির কক্ষে ঢোকার পরই আমাদের বসিয়ে রেখে নানা ভয়ভীতি দেখানো ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কক্ষে থাকা লোকজন আমার কাছে ৫ হাজার ও চেয়ারম্যানের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের বের হতে দেওয়া হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখার পর আমি বিকাশে ৫ হাজার টাকা দিই। আর চেয়ারম্যান নগদ ১৫ হাজার টাকা দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পান।’
সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় তিনি বাধ্য হয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নানকে বিষয়টি জানান। পরে মান্নান তাঁর ছেলেকে আদালতে পাঠালে তাঁর মধ্যস্থতায় টাকা বুঝিয়ে দিয়ে উদ্ধার হন কাশেম। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আবুল কাশেম আমাকে ফোন করার পর আমি ছেলেকে পাঠিয়ে বিষয়টি মিটমাট করি। তবে আদালতের ভেতরে একজন সাক্ষীর সঙ্গে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অবশ্য টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হযরত আলী। তাঁর ভাষ্য, ‘২০২২ সালের ওই মামলাটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে আসামি করেছিলেন। মঙ্গলবার তিনি সাক্ষ্য দিতে এলে মামলার বিবাদীরা তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। আমি মাঝখানে পড়ে তাঁকে রক্ষা করেছি।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান ফোন করার পর আমি নিজ দায়িত্বে আমার মোহরুরিকে দিয়ে কাশেমকে নিরাপদে পৌঁছে দিই। কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’