নরসিংদীর হাজিপুরের বাদুয়ারচর এলাকার একটি জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত ১০ শতাংশ জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মসজিদের সাবেক সেক্রেটারি মাসুদুল হক মাস্টার ও তার ছেলে সোহেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে ওয়াকফ দলিল, পরবর্তী দলিল এবং স্থানীয়দের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর আব্দুর রহিমের স্ত্রী বেগম নেছা বাদুয়ারচর গ্রামের রেললাইনের পাশের জামে মসজিদের নামে ৬ শতাংশ জমি ওয়াকফ করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলিল অনুযায়ী মোট ১০ শতাংশ জমি মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়। ওয়াকফনামা নং-২০০ এবং দলিল নং-১৩৪০৪ অনুযায়ী বাদুয়ারচর মৌজার সংশ্লিষ্ট দাগভুক্ত জমি মসজিদের নামে নিবন্ধিত হয়। সে সময় মসজিদের সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন মাসুদুল হক মাস্টার।
অভিযোগে বলা হয়, সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকাকালীন মাসুদুল হক মাস্টার ওই ওয়াকফকৃত জমিকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে পরবর্তীতে দলিলের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেকে প্রথম পক্ষ দেখিয়ে এবং আফিয়া বেগমকে মালিক হিসেবে উপস্থাপন করে দলিল নং-২০১৩১ মূলে নরসিংদীর আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কাছে ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় জমিটি বিক্রি করেন, যা অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে মসজিদের বড় ইমাম মাওলানা আসাদুল্লাহ বলেন, “এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে মাসুদুল হক মাস্টার ও তার ছেলে সোহেল মসজিদকে ৬ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে বাকি ৪ শতাংশ জমি এখনো তাদের বাড়ির ভেতরে রয়েছে, যা এখনো মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।”
মাসুদুল হক মাস্টারের আপন ভাই জাহিদও অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “ঘটনাটি সত্য।”অভিযোগে আরও বলা হয়, সোহেল আমিনের দায়িত্বে থাকাকালীন দলিলের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কৌশলে মসজিদের জমি নিজেদের নামে নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুদুল হক মাস্টার ও তার ছেলে সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি যথাযথভাবে মসজিদের নামে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।