ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার পাশাপাশি ভেতরে থাকা ৭টি ছাগলের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। একই আগুনে পার্শ্ববর্তী আরও একটি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের তীব্র উত্তাপে চারপাশের প্রায় ১০ থেকে ১২টি ফলের ও কাঠের গাছ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত রবিবার মাঝরাতে (আনুমানিক রাত ১টার দিকে) উপজেলার টিলারচর গ্রামের বাসিন্দা সেক আদেল (৬০), পিতা—মৃত সেক খোরশেদ-এর বাড়ির ছাগলের ঘরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ ছাগলের অস্বাভাবিক চিৎকার শুনে সেক আদেল ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, তার ছাগলের ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। সেক আদেল ও তার পরিবারের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ঘরটি চোখের সামনে ছাই হয়ে যায়।
গোয়ালঘরে আটকা পড়ে ছটফট করতে করতে মর্মান্তিকভাবে পুড়ে মারা যায় অবুঝ ৭টি ছাগল।
আগুনের উত্তাপ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তা দ্রুত পাশের একটি বসতঘরে আঘাত হানে এবং ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে চারপাশের অন্তত ১০-১২টি মূল্যবান ফলদ ও কাষ্ঠল গাছপালা আগুনে ঝলসে নিঃশেষ হয়ে গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে ছাগলকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে ঘরে যে মশার কয়েল জ্বালানো হয়েছিল, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে থাকতে পারে।
আকস্মিক এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটি। জীবিকা ও উপার্জনের অন্যতম অবলম্বন ছাগলগুলো হারিয়ে পরিবারটিতে এখন শোকের মাতম ও চরম হতাশা বিরাজ করছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি জরুরি মানবিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।