কাজিরহাট থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদকের কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে বসে মাদকের রমরমা আসর। বারবার অভিযান চালানোর দাবি উঠলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। অনুসন্ধানে ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাজিরহাট থানার আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠেছে মাদকের নিরাপদ জোন। উল্লেখযোগ্য স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্রিজ বাজার ইটের বাটা সংলগ্ন এলাকা, পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পেছন দিক, উত্তর রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট রুস্তম সরদারের ঘর, কাটাখালি ব্রিজের পশ্চিম দিকে রাস্তার মধ্যভাগ, বাদল রতনপুর গ্রামে আমজু ঘরামির বাড়ির সংলগ্ন এলাকা, চিলমারি চিল, মারি জোড়া ব্রিজ, মাধব রায় গ্রাম এবং বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সন্ধ্যা সাতটার পর। পশ্চিম রতনপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ওহাব ব্যাপারীর বাড়ির ব্রিজের দক্ষিণ পাশ, বানঘাটা বাজারের পূর্ব দিক, লতা ইউনিয়নের একতা ডিগ্রি কলেজ মাঠ (সন্ধ্যার পরে), এবং সন্তোষপুর গ্রামের মাদ্রাসার পেছনে নাসির খানের বাড়ির রাস্তার উত্তর-দক্ষিণ পাশে। উদয়পুর গ্রামের বালুর মাঠ, তুলাতলী বাজারের গুশু গ্রাম, হাজিরহাট বাজার। ভাষানচর ইউনিয়নের দফাদার বাজারের পেছনের কলেজ মাঠ (সন্ধ্যা ৭টার পর), গাজিরহাট বাজারের কাদা মাখা গ্রাম, খলিশার পার বরইয়া বাজারের পূর্ব পাশ এবং হেশামতি বাজারের স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন স্পট। মকবুল কারবারির বাজারের পেছনের এলাকা, সাইকোলজিং সেন্টারের দক্ষিণ পাশে স্কুলসংলগ্ন এলাকা (সন্ধ্যা ৭টার পর) এবং রহমান হাট বাজারের পূর্ব পাশে রাত আটটার পর থেকে বসে মাদকের হাট। আন্দারমানিক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাইমারি স্কুল মাঠ এবং মাদ্রাসা সংলগ্ন দক্ষিণ দিক (রাত আটটার পর), ৩ নম্বর ওয়ার্ডে লতা বাজারের পূর্ব পাশ এবং গোলেরহাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক মহলের নাম ভাঙিয়ে এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও মাদক ব্যবসা বন্ধ তো দূরের কথা, দিন দিন এর বিস্তার আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে এত সহজে মাদকের রমরমা বাজার সচল থাকে? এর আসল রহস্য কী? এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান এসব চিহ্নিত স্পটে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো ও ফলপ্রসূ অভিযান চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাদের। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার থেকে যুবসমাজ ও উঠতি প্রজন্মকে রক্ষা করতে অবিলম্বে স্ব স্ব এলাকার চিহ্নিত স্পটগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা এবং নেপথ্যের কুশীলবদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।