সম্মতি ছাড়া কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অবস্থান পরিষ্কার। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ননীক্ষীর ইউনিয়ন কমিটিতে নিজের সম্মতি ও পূর্বানুমতি ছাড়া নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম ও দলীয় পদ-পদবি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন শিক্ষক মোঃ সুজন শেখ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের বৈদ্যবাড়ি মোড়ে বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব (বিজেসি), দেশের দক্ষিণ অঞ্চল প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এ ঘোষণা দেন। মোঃ সুজন শেখ মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের পশ্চিম নওখন্ডা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার পূর্বানুমতি, সম্মতি কিংবা অবগতির বাইরে তাকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ননীক্ষীর ইউনিয়ন কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তিনি প্রতিবাদ জানান এবং ওই রাজনৈতিক পদ বা কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি গ্রহণের জন্য তিনি কাউকে সম্মতি দেননি বলেও জানান।
লিখিত বক্তব্যে সুজন শেখ অভিযোগ করেন, বিষয়টির প্রতিবাদ করার পর তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানির মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অতীতে ওই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা ছিল না, বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতেও কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় পদ-পদবি বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছা নেই।তিনি আরও জানান, তার নাম কোনো রাজনৈতিক কমিটিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কিংবা সম্মতি ছাড়া অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে ওই পদ-পদবি থেকে তিনি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে ও সুস্পষ্টভাবে পদত্যাগ করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের তার নাম প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।একজন শিক্ষক হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার পেশাগত নিরপেক্ষতা, সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়-এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, শিক্ষার্থীদের কাছে একজন শিক্ষকের নিরপেক্ষতা ও পেশাগত মর্যাদা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখলেও দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সুজন শেখ। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে দেশের আইন, সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান রেখে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবেন।
দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে সামর্থ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথাও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সুজন শেখ তার বক্তব্যটি নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠভাবে জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।
এছাড়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি অনুরোধ করেন, ভবিষ্যতে তার সম্মতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি বা সাংগঠনিক পরিচয়ের সঙ্গে তার নাম ব্যবহার করা হলে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার প্রত্যয়।
তবে সুজন শেখকে যে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন, সেই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, তার নাম অন্তর্ভুক্তির কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফলে অভিযোগটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।