ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ডাকিয়াপাড়া বাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আশিক মাহমুদকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, হয়রানি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ডাকিয়াপাড়া বাজার এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, আশিক মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, জমি দখল এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আশিক মাহমুদের চাচা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১ জুলাই একটি পারিবারিক ঘটনার জেরে আশিক মাহমুদ ও তাঁর বাবা তাঁর মাকে মারধর করেন। এ সময় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এমদাদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আবুল হোসেন, রামিম মিয়া, মুফতি এনামুল হাসান, আবির হোসেন, মনির হোসেন ও টুটুল মিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলা করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি সাজানো হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। এর ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, আশিক মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা শের আলীর মালিকানাধীন একটি জমি দখল করে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জোরপূর্বক ওই জমিতে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জমির প্রকৃত মালিককে তাঁর সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে যেভাবে দখল ও জবরদখলের ঘটনা ঘটত, বর্তমানে এনসিপির পদে থাকার সুযোগ নিয়ে আশিক মাহমুদ একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব কারণে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকার মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে চান। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারেন, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁরা আশিক মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে আশিক মাহমুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।