টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নৌকা ভ্রমনে এসে বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে ইসমাইল হোসেন (১৪) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়।নিখোঁজ হবার ২৪ ঘন্টা পর রবিবার বিকাল পাঁচটায় তার লাশ নদীতে ভেসে উঠে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকাল আনুমানিক ৪ টার সময় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ হওয়া ওই কিশোরের বাড়ি গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি থানার আমবাগ এলাকায়।সে ওই এলাকার বাসিন্দা মুফতি খান ইব্রাহিম খলিলের ছেলে।
ভ্রমনকারীদের দেয়া তথ্যমতে,গাজীপুরের কোনাবাড়ি বাগিয়া নদীর ঘাট হতে ৭০/৮০ জন লোক নিয়ে নৌকা ভ্রমণে এসেছিল হাটুভাঙ্গা বংশাই নদীতে পিকনিক করতে । এখানে এসে পিকনিকের লোকজনের পক্ষ হতে রান্না করা হয়েছে।অনেকে আবার ফুটবল খেলায় ব্যস্ত সময় পার করেছে ।আনন্দ উল্লাসের এক পর্যায়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত দেহ নিয়ে সবাই নদীর পানিতে গোসল করতে নামে। এ সময় গোসলরত অবস্থায় ইসমাইল হোসেন নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। পিকনিকে সাথে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধারের যথাসাধ্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অনেক চেষ্টা করেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপায়ান্তর না দেখে অনতিবিলম্বে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়।এসময় ইসমাইল হোসেনের পরিবারে তার নিখোঁজের সংবাদ পৌঁছে দিলে স্বজনরা ঘটনাস্থলে চলে আসে। তাদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম ও ডুবুরি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পৌছায় এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে ।প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে খোঁজার পরও নিখোঁজ হওয়া কিশোরের কোন খোঁজ মেলেনি। রাত নেমে আসার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কাজ স্থগিত করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস মির্জাপুর ইউনিটের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও ডুবুরি দলের প্রধান মোস্তফা কামাল বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দেড় ঘন্টা খুঁজাখুঁজি করেও লাশের সন্ধান পাইনি।আজ সন্ধ্যা হয়ে গেছে,তাই আগামীকাল আবার খোঁজার চেষ্টা করব।
ঘটনার প্রথম দিনে ডুবুরিদের প্রচেষ্টায় কিশোর ইসমাইল হোসেনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও ২৬/৭/২৬ রবিবার বিকাল আনুমানিক পাঁচটার সময় স্থানীয় লোকজন নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে। এসময় স্বজনরা ইসমাইল হোসেনের লাশ শনাক্ত করে।
ইসমাইল হোসেন কুরআনের একজন হাফেজ ছিল বলে জানা গেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগ পর্যন্ত সে মাওলানা বিভাগে পড়াশোনা করছিল।